বাবান আদক, কলকাতা: জীবনে নেমে আসা অন্ধকারকে কীভাবে আলোয় বদলাতে হয়, তার এক নিখুঁত রূপকথা লিখলেন শর্মিলা ধনকর (Sharmila Dhankar)। কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ায় একসময় জুটত স্বামীর অকথ্য মারধর। সেই শর্মিলাই আজ কমনওয়েলথ গেমসের মঞ্চে ভারতের গর্ব। শুধু পদক জয় নয়, বরং নারীশক্তির এক জ্বলন্ত প্রতীক হিসেবে তিনি জবাব দিলেন সেই সমাজকে, যারা মেয়েদের অবজ্ঞার চোখে দেখে।
সোমবার রাতে প্যারা অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় জুড়ল ভারত। মেয়েদের শটপাটে এফ৫৭ বিভাগে ৯.৮১ মিটার ছুড়ে সোনার পদক ছিনিয়ে নিলেন শর্মিলা। হাঁটু বা তার নীচের অংশে সমস্যা থাকা অ্যাথলিটরা এই বিভাগে অংশ নেন। শর্মিলার এই অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্সের সুবাদে কমনওয়েলথ গেমসের প্যারা অ্যাথলেটিক্সে ভারতের দীর্ঘ ২০ বছরের পদক-খরার অবসান ঘটল। শুধু তাই নয়, ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে প্রথম অ্যাথলিট হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসের প্যারা অ্যাথলেটিক্সে সোনার পদক জেতার অনন্য নজিরও গড়লেন তিনি।
শর্মিলার এই উত্থান মোটেও সহজ ছিল না। মাত্র দু’বছর বয়সে ডান পায়ে থাবা বসায় পোলিয়ো। মা ছিলেন দৃষ্টিহীন, আর কৃষক বাবার সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরনোর দশা। চরম দারিদ্র্যের কারণে জুটেছিল না ন্যূনতম চিকিৎসাও। কিন্তু সেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর ইচ্ছাশক্তিকে কাবু করতে পারেনি।
জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায় শুরু হয় ১৯ বছর বয়সে, বিয়ের পর। জোড়া কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার ‘অপরাধে’ শ্বশুরবাড়িতে জুটত অকথ্য গঞ্জনা। পুত্রসন্তান না হওয়ায় এক রাতে রাত ১১টা থেকে ভোর ৩টে পর্যন্ত প্রথম স্বামীর নির্মম প্রহার সহ্য করতে হয় তাঁকে। অবশেষে বাড়ি থেকে এক কাপড়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। ছ’বছর বাপের বাড়িতে থাকার পর শুরু হয় জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস।
দ্বিতীয় স্বামী অজিত সিংহের হাত ধরেই প্যারা স্পোর্টসের জগতে প্রবেশ শর্মিলার। টেক চাঁদ এবং দেবেন্দ্রর মতো কোচেদের কাছে তালিম নিয়ে ২০২১ সালে প্যারা জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অভিষেক হয় তাঁর। জাতীয় রেকর্ড গড়ে সোনা জেতার পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। আগের বছর বার্মিংহাম কমনওয়েলথ এবং এশিয়ান গেমসে চতুর্থ স্থানে শেষ করার আক্ষেপ এবার সুদে-আসলে মেটালেন শর্মিলা।
দীর্ঘ সংগ্রামের পর এই বছর নিজের একটি বাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখছেন চ্যাম্পিয়ন অ্যাথলিট। সোনার পদক গলায় ঝুলিয়ে এক ওয়েবসাইটে শর্মিলার দৃপ্ত ঘোষণা, “খেলাধুলো আমায় দ্বিতীয় জন্ম দিয়েছে। এই সোনা তাঁদের জন্য, যাঁরা কন্যাসন্তানদের পাত্তা দেন না। সামান্য সমর্থন পেলে মেয়েরা ছেলেদের চেয়েও বেশি কীর্তি গড়তে পারে।”
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের





