জোকোভিচের প্রশ্নে দার্শনিক মেসি, বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ভাইরাল উত্তর

বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: আগামী ১৯ জুলাই স্পেনের বিরুদ্ধে কেরিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নামছেন লিয়োনেল মেসি (Lionel Messi)। তার আগেই এক বিরল মুহূর্তের সাক্ষী…

lionel-messi-philosophical-reply-to-novak-djokovic-before-world-cup-final

বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: আগামী ১৯ জুলাই স্পেনের বিরুদ্ধে কেরিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নামছেন লিয়োনেল মেসি (Lionel Messi)। তার আগেই এক বিরল মুহূর্তের সাক্ষী থাকল বিশ্ব ক্রীড়ামহল। সবুজ গালিচার জাদুকরের মুখোমুখি ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক নোভাক জোকোভিচ। প্রশ্নকর্তার ভূমিকায় জোকার, আর উত্তরদাতা স্বয়ং লিয়োনেল মেসি। দুই কিংবদন্তির বয়সই এখন ৩৯, কিন্তু কারও অভিধানেই ‘অবসর’ শব্দটির কোনও অস্তিত্ব নেই। সদ্য উইম্বলডনের সেমিফাইনাল খেলা ‘জোকার’

মেসিকে সামনে পেয়ে সার্বিয়ান তারকার সোজাসাপটা কৌতূহল, ‘‘তুমি কী করে এই অনন্ত চাপ উপেক্ষা করে নিজের খেলার দক্ষতা একই মাত্রায় বজায় রাখতে শিখলে?’’ বিশ্বের অন্যতম সেরা টেনিস খেলোয়াড়ের এই ‘এস’ অনায়াসেই সামলে দিলেন মেসি। ট্রেডমার্ক হাসিমুখে তাঁর জবাব, ‘‘আমি চাপ নিয়ে কখনও খুব বেশি ভাবি না। বিষয়টাকে আমি সব সময় খুব স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখেছি। মাঠে নামা, খেলাটা উপভোগ করা এবং প্রতিযোগিতার মধ্যে থাকা এটাই আসল। আমরা প্রতিযোগিতা ভালবাসি। সব সময় জিততে চাই। কিন্তু ফুটবল তো একটা খেলা। আমাদের প্রতিপক্ষও তো জেতার জন্যই মাঠে নামে। তাই সব সময় জেতা সম্ভব হয় না।’’

নন্দনের বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফাইনাল, মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিশেষ আয়োজন

স্প্যানিশ আর্মাডার বিরুদ্ধে মহারণের আগে মেসির এই নির্লিপ্ততা যেন এক পরিণত দর্শনের ইঙ্গিত দেয়। ২০১৪-র মারাকানায় হৃদয়ভঙ্গ থেকে ২০২২-এর লুসাইলে বিশ্বজয় সবই দেখেছেন তিনি। তাই তো জোকোভিচের সামনে তাঁর অকপট স্বীকারোক্তি, ‘‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি শিখেছি, জীবনে জয়ের থেকে হারের সংখ্যাই বেশি হয়। এই উপলব্ধিই আমাকে এক জন ব্যক্তি এবং খেলোয়াড় হিসাবে পরিণত হতে সাহায্য করেছে।’’

পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

৩৯ বছর বয়সে দাঁড়িয়েও খেতাব জয়ের যে অদম্য খিদে এই দুই মহাতারকা দেখিয়ে চলেছেন, তা ক্রীড়া ইতিহাসের এক অন্যতম বিরল অধ্যায়। আগামী ১৯ জুলাই দে লা ফুয়েন্তের স্পেনের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের এই ‘চাপহীন’ এবং পরিণত মানসিকতাই যে দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার, রবিবারের ফাইনালে এই নির্লিপ্ত ফুটবল দর্শন আরও একবার বিশ্বজয়ের রূপকথা লিখতে পারে কি না।