স্পোর্টস ডেস্ক, কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রেও (Kolkata Football) একের পর এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থা ও ক্লাবের কার্যকলাপ নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কলকাতা ময়দানের পরিচিত ক্লাব সুরুচি সংঘকে ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে এই ক্লাবের নাম জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের জেরে ক্লাবের ফুটবল কার্যক্রম কার্যত থমকে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
Read More: প্রভসুখান সিং গিলের সঙ্গে চুক্তি বাড়াচ্ছে লাল-হলুদ
ক্লাবের কোচ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বক্তব্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের বুধবার শেষবারের মতো দলের অনুশীলন হয়েছে। তারপর থেকে আর কোনও প্র্যাকটিস হয়নি। এর পরদিনই স্বরূপ বিশ্বাসকে একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। যৌন হেনস্থা, তোলাবাজি, খুনের চেষ্টাসহ বিভিন্ন মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি অস্ত্র আইনেও মামলা দায়ের হয়েছে। আদালতের নির্দেশে আপাতত তাঁকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে সুরুচি সংঘের ফুটবল দলের ওপর।
রঞ্জন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে অনুশীলন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই অনেক ফুটবলার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগতে শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে কয়েকজন খেলোয়াড় অন্য ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন বলেও খবর। যদিও সুরুচি সংঘের পক্ষ থেকে এখনও তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। ফলে ফুটবলারদের অবস্থাও জটিল হয়ে উঠেছে।
Read More: ১৪ ছক্কায় ইতিহাস গড়লেন করণ লাল, কাঁপল বেঙ্গল টি-টোয়েন্টি লিগ
কোচের দাবি, তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিভাবান ফুটবলার বেছে এনে একটি শক্তিশালী দল তৈরি করেছিলেন। আসন্ন কলকাতা লিগে সুরুচি সংঘ বড় দলগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো অবস্থায় ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে। ক্লাব কর্তারা আপাতত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে বলেছেন এবং অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন।
শুধু সুরুচি সংঘ নয়, একই ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে শ্রীভূমি স্পোর্টিংও। প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর সঙ্গে এই ক্লাবের নাম দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ছিল। সূত্রের খবর, আসন্ন কলকাতা লিগে শ্রীভূমি আদৌ অংশ নেবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এখনও পর্যন্ত ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, সদ্য জাতীয় স্তরে সাফল্য পাওয়া ডায়মন্ড হারবার এফসিকেও ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। আইএফএল জয়ের পর ক্লাবটি আইএসএলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেও এখনও নতুন মরশুমের প্রস্তুতি শুরু করতে পারেনি। অনুশীলন শিবির চালু না হওয়ায় ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমনও শোনা যাচ্ছে যে, গত কয়েক মাস ধরে অনেক কর্মী এবং সাপোর্ট স্টাফ নিয়মিত বেতন পাননি।
সব মিলিয়ে কলকাতার ফুটবলের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এখন অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। এক সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে চলা কয়েকটি ক্লাবের ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে। তারা কি পরিস্থিতি সামলে আবার মাঠে ফিরবে, নাকি কলকাতা ফুটবলের মানচিত্র থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে— সেই উত্তরই এখন খুঁজছে ক্রীড়ামহল।

