
স্পোর্টস ডেস্ক, কলকাতা: বেঙ্গল টি-টোয়েন্টি লিগে (Bengal T20) ব্যাট হাতে এক অসাধারণ প্রদর্শন করলেন সার্ভোটেক শিলিগুড়ি স্ট্রাইকার্সের তারকা ক্রিকেটার করণ লাল। তাঁর ঝোড়ো ইনিংসের সৌজন্যে অ্যাডামাস হাওড়া ওয়ারিয়র্সের বিরুদ্ধে বিশাল স্কোর দাঁড় করাল শিলিগুড়ি। ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ২৩১ রান তোলে স্ট্রাইকার্স। আর সেই রানপাহাড় গড়ার মূল কারিগর ছিলেন করণ, যিনি একাই করেন ১৪৫ রান।
৬৪ বলের ইনিংসে করণ যে ধরনের ব্যাটিং করেছেন, তা শুধু ম্যাচের গতিপথই বদলায়নি, টুর্নামেন্টের রেকর্ড বইয়েও নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। শুরু থেকেই তিনি আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। পাওয়ারপ্লে থেকে ডেথ ওভার— মাঠের চারদিকেই অনায়াসে বাউন্ডারি ও ওভার-বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১৪টি বিশাল ছক্কা, যা বেঙ্গল টি-টোয়েন্টি লিগের ইতিহাসে কোনও ব্যাটারের সর্বাধিক ছক্কার নতুন নজির।
Read More: বাংলার জার্সিই সবচেয়ে বড় স্বপ্ন, আবেগঘন বার্তা ফুটবলার মিঠুন করের
এই ইনিংসের মাধ্যমে করণ টুর্নামেন্টের ইতিহাসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোরের মালিকও হয়ে গেলেন। এর আগে গত মরসুমে গৌরব চৌহান ১০৩ রানের শতরান করেছিলেন। করণের ১৪৫ রান সেই রেকর্ডকে অনেকটাই পিছনে ফেলে দিল। একই সঙ্গে এটি টুর্নামেন্টের মাত্র দ্বিতীয় শতরান হিসেবেও নথিভুক্ত হলো।
ইনিংসের শেষ মুহূর্তেও করণের লক্ষ্য ছিল আরও বড়। শেষ বলে ছক্কা মেরে ১৫০ রানের মাইলফলক ছোঁয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে সেই প্রচেষ্টায় কণিষ্ক শেঠের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারির কাছে ক্যাচ তুলে দেন। শচীন কুমার যাদব সেই ক্যাচটি ধরে তাঁর দুরন্ত ইনিংসের ইতি টানেন। তবু আউট হওয়ার সময় গোটা ইডেন গার্ডেন্স দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে সম্মান জানায় এই অসাধারণ ইনিংসকে।
করণের পাশাপাশি দলের অধিনায়ক সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ৫৮ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। দু’জনে মিলে উদ্বোধনী জুটিতে ১১৭ রান যোগ করে দলের ভিত মজবুত করে দেন। সেই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েই পরে বড় স্কোর গড়ে শিলিগুড়ি।
আরও একটি বিষয় এই ইনিংসকে বিশেষ করে তুলেছে। ম্যাচটি দেখতে ইডেনের কর্পোরেট বক্সে উপস্থিত ছিলেন আইপিএলের দুই সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি মুম্বাই ইন্ডিয়ানস এবং চেন্নাই সুপার কিংসের স্কাউটরা। তাঁদের সামনেই করণের এই বিস্ফোরক ব্যাটিং নিঃসন্দেহে বাড়তি নজর কেড়েছে।
ম্যাচ শেষে নিজের সাফল্যের রহস্য জানাতে গিয়ে করণ বলেন, আগের কয়েকটি ম্যাচে তিনি কিছুটা তাড়াহুড়ো করে ফেলছিলেন। কিন্তু এদিন শুরু থেকে ধৈর্য ধরে ব্যাট করার পরিকল্পনা ছিল। একবার সেট হয়ে যাওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন বল ভালোভাবে ব্যাটে আসছে, তখনই বড় শট খেলার সিদ্ধান্ত নেন। নিয়মিত অনুশীলনে বিপুল সংখ্যক ছক্কা মারার অভ্যাসই তাঁকে এই ইনিংস খেলতে সাহায্য করেছে বলেও জানান তিনি।
এক কথায়, করণ লালের এই ১৪৫ রানের ইনিংস শুধু একটি বড় স্কোর নয়, বেঙ্গল টি-টোয়েন্টি লিগের ইতিহাসে দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো এক ব্যাটিং মহাকাব্য।

