কল্যাণী, ১৩ জুন: রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ডা. মুকুটমনি অধিকারীর (Mukutmoni Adhikari) কল্যাণীর ফ্ল্যাট ঘিরে শনিবার রাতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে কল্যাণী থানার পুলিশ তাঁর ব্যবহৃত বলে দাবি করা একটি ফ্ল্যাটে তল্লাশির উদ্যোগ নেয়। জানা গিয়েছে, রাত প্রায় ১০টা নাগাদ মুকুটমনি অধিকারীকে ইমেলের মাধ্যমে একটি নোটিশ পাঠানো হয়। সেখানে জানানো হয়, ফ্ল্যাটের তিনটি তালাবন্ধ ঘর দ্রুত খুলে দিতে হবে, অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ সূত্রে খবর, নোটিশ পাঠানোর পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘর না খোলা হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে কল্যাণীতে প্রায়শই দেখা যেত প্রাক্তন বিধায়ককে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি সেখানে একটি ফ্ল্যাট নিয়ে থাকতেন। তবে নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকে তাঁকে আর এলাকায় বিশেষ দেখা যায়নি।
এই ঘটনার সূত্রপাত বিজেপির এক অভিযোগকে কেন্দ্র করে। বিজেপি বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি সব্যসাচী মুখার্জী শনিবার কল্যাণী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, কল্যাণীর বি-৮/২৬ নম্বরের তিনটি ফ্ল্যাটে মুকুটমনি অধিকারী এবং ওই ফ্ল্যাটের প্রোমোটার গৌরাঙ্গ সরকার থাকেন। অভিযোগে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ওই ফ্ল্যাটগুলিতে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুত করে রাখা হয়েছে। গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ যাতে আত্মসাৎ না হয়, সেই কারণেই পুলিশের মাধ্যমে তল্লাশির দাবি জানান তিনি।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ফ্ল্যাটের প্রোমোটার গৌরাঙ্গ সরকারকেও চাবি নিয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। তাঁর বাড়িতেও নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে খবর। ঘটনার পর থেকেই ফ্ল্যাট চত্বর ঘিরে জড়ো হন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। যদিও পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রাক্তন বিধায়ক মুকুটমনি অধিকারীর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে জানা গিয়েছে।
এখন পুলিশি তদন্তে কী উঠে আসে এবং ফ্ল্যাট থেকে আদৌ কোনও ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার হয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।


