জন্মদিনেও থামেনি মেসির বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ! বোঝালেন কেনো তিনি কিংবদন্তি !

FIFA World Cup 2026: মেসির জন্মদিন মানেই যেন বিশ্ব ফুটবলের এক বিশেষ উৎসব। গত ২২ বছরে তাঁর ফুটবল জীবনের ২২টি জন্মদিনের মধ্যে ১৩টিই কেটেছে আর্জেন্টিনা…

Messi

FIFA World Cup 2026: মেসির জন্মদিন মানেই যেন বিশ্ব ফুটবলের এক বিশেষ উৎসব। গত ২২ বছরে তাঁর ফুটবল জীবনের ২২টি জন্মদিনের মধ্যে ১৩টিই কেটেছে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের শিবিরে। কারণ জুন মাসের শেষ সপ্তাহ মানেই কখনও বিশ্বকাপ, কখনও কোপা আমেরিকা, আবার কখনও অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। তাই পরিবারের চেয়ে সতীর্থদের সঙ্গেই বেশি বার জন্মদিন উদযাপন করেছেন ফুটবলের এই মহাতারকা।

২০০৫ সালে নেদারল্যান্ডসে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ চলাকালীন প্রথমবার জাতীয় দলের শিবিরে জন্মদিন পালন করেছিলেন মেসি। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৮ বছর। সেই টুর্নামেন্টে তিনি শুধু আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়নই করেননি, জিতেছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা ফুটবলারের পুরস্কারও। সেই সময় তাঁর পাশে ছিলেন হুয়ান রোমান রিকেলমে। কাকতালীয়ভাবে রিকেলমের জন্মদিনও ২৪ জুন। ফলে দুই বন্ধু একসঙ্গে কেক কেটে উদযাপন করেছিলেন সেই দিনটি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেছে। বদলে গিয়েছে সতীর্থদের মুখ, বদলে গিয়েছে দলের প্রজন্ম। কিন্তু জাতীয় দলের শিবিরে জন্মদিন পালন করা মেসি যেন একই রয়ে গিয়েছেন।

   

একসময় যাঁদের সঙ্গে জন্মদিন কাটিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই এখন অবসর নিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর পাশে রয়েছেন রদ্রিগো ডি’পল, এনজো ফার্নান্দেজ, জুলিয়ান আলভারেজদের মতো নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা। বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেসি। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক চললে নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচের জন্য দল মায়ামিতে পৌঁছবে। সেখানে ইতিমধ্যেই খেলেছে নেইমারের ব্রাজিল, আসছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগাল। ফলে শহরজুড়ে ফুটবল উন্মাদনা তুঙ্গে।

মেসির ৩৯তম জন্মদিন উপলক্ষে মায়ামির সমুদ্রসৈকতগুলো যেন নীল-সাদা রঙে ঢেকে যায়। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে বিভিন্ন জনপ্রিয় সৈকত। শুধু আর্জেন্টিনা নয়, বিশ্বের নানা প্রান্তের মেসিভক্তরাও এই বিশেষ দিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য একত্রিত হন।

আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় টেলিভিশন সঞ্চালক রোদোলফো বারিলির উদ্যোগে শুরু হয় এক অভিনব প্রচারাভিযান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিশেষ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে মেসি-ভক্তদের আহ্বান জানানো হয়। পরিকল্পনা ছিল, সকাল ১০টা থেকে টানা ১২ ঘণ্টা সবাই মেসির উদ্দেশ্যে গান গাইবেন এবং সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করবেন। মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। মায়ামির বিভিন্ন জায়গায় সমর্থকদের কণ্ঠে ধ্বনিত হতে থাকে মেসির নাম।

তবে এত আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মানুষটি নিজে ছিলেন সম্পূর্ণ অন্য মেজাজে। আর্জেন্টিনা দলের বেস ক্যাম্প তখন কানসাসে। সময়ের হিসাবেও ছিল মজার বিভ্রান্তি। কানসাস, ডালাস এবং আর্জেন্টিনার সময় এক নয়। তাই প্রশ্ন উঠেছিল, ঠিক কোন সময় থেকে শুরু হবে ‘মেসি দিবস’? এই প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিয়ে দেন মেসি। তিনি নিজের জন্মদিনের বিশেষ মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার জন্য বেছে নেন আর্জেন্টিনার সময়কে।

আর্জেন্টিনায় যখন মধ্যরাত, তখন নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। কিন্তু সেখানে ছিল না কোনও কেক, কোনও পার্টি বা জমকালো উদযাপন। বরং দেখা যায় জিমে কঠোর অনুশীলনে ব্যস্ত মেসিকে। ভিডিওর সঙ্গে জন্মদিন নিয়ে একটি শব্দও লেখেননি তিনি। তবু সেই পোস্টই লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

কারণ মেসির বার্তা ছিল স্পষ্ট—বয়স যতই বাড়ুক, সাফল্য যতই আসুক, তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এখনও ফুটবল এবং নিজেকে সেরার পর্যায়ে ধরে রাখার লড়াই। জন্মদিনের আনন্দের মাঝেও তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেশের জন্য আরও একবার ইতিহাস গড়ার। কখনও কখনও শব্দের প্রয়োজন হয় না; একটি ছবি বা একটি মুহূর্তই বলে দেয় একজন কিংবদন্তির মানসিকতা কেমন। লিওনেল মেসির ৩৯তম জন্মদিনও ঠিক তেমনই এক নীরব অথচ গভীর বার্তা রেখে গেল ফুটবল বিশ্বের কাছে।