ড্র করেও ইতিহাস ! এই বিশ্বকাপের প্রথম এশীয় দল হিসেবে নকআউটে জাপান

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেল জাপান (World Cup)। সুইডেনের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করেও প্রথম এশীয় দল হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত…

japan-first-asian-team-to-reach-world-cup-2026-knockout-stage

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেল জাপান (World Cup)। সুইডেনের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করেও প্রথম এশীয় দল হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করল সামুরাই ব্লু। গ্রুপ এফ-এর লড়াই শেষে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে জাপানও শেষ ৩২-এ পৌঁছে গেল। পরের পর্বে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে শক্তিশালী ব্রাজিল।

ম্যাচের আগে জাপানকে কিছুটা এগিয়েই রাখা হচ্ছিল। কারণ, সুইডেন আগের ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল। অন্যদিকে, জাপান টুর্নামেন্টে দারুণ ছন্দে ছিল। প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে তিউনিশিয়াকে ৪-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ছিল তারা।

   

আরও দেখুনঃ লাজংয়ের ‘দেওয়াল’ রুদ্র বেদ মোলা কি ইস্টবেঙ্গলে? জোর ট্রান্সফার জল্পনা

তবে সুইডেনের বিরুদ্ধে সেই আগ্রাসী ফুটবল দেখা যায়নি। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই রক্ষণকে বেশি গুরুত্ব দেয়। মাঝমাঠে বল দখলের লড়াই চললেও প্রথমার্ধে পরিষ্কার গোলের সুযোগ খুব কমই তৈরি হয়। ফলে বিরতিতে গোলশূন্য অবস্থাতেই মাঠ ছাড়ে দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য খেলার গতি বদলাতে শুরু করে। জাপান আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় এবং ৫৬ মিনিটে সেই প্রচেষ্টার ফলও পায়। দাইজেন মেডা দুর্দান্ত ফিনিশে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোলের পর মনে হচ্ছিল, জাপান হয়তো পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়বে।

কিন্তু সুইডেন দ্রুত ম্যাচে ফিরে আসে। জাপানের রক্ষণে সামান্য ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যে সমতা ফেরান অ্যান্থনি এলাঙ্গা। এরপর দুই দলই জয়ের জন্য চেষ্টা চালালেও আর কোনও গোল হয়নি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ১-১ ফলেই শেষ হয় ম্যাচ। এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ এফ-এ নেদারল্যান্ডস ও জাপান শীর্ষ দুই দল হিসেবে সরাসরি নকআউটে জায়গা করে নেয়। সুইডেন তৃতীয় স্থানে শেষ করলেও তাদের সংগ্রহে থাকা চার পয়েন্ট অন্য গ্রুপের তৃতীয় স্থানের দলগুলির তুলনায় যথেষ্ট ভালো হওয়ায় তারাও শেষ ৩২-এ খেলার সুযোগ নিশ্চিত করেছে।

জাপানের এই সাফল্য কেবল নকআউটে ওঠার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গোটা টুর্নামেন্টে তাদের সংগঠিত রক্ষণ, দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ এবং দলগত ফুটবল বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। ইউরোপ ও আফ্রিকার শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করে তারা প্রমাণ করেছে যে, বিশ্ব ফুটবলে এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব এখন অনেক বেশি শক্তিশালী।

তবে আসল পরীক্ষা এখন শুরু। নকআউট পর্বে জাপানের প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। অভিজ্ঞতা, তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড এবং আক্রমণভাগের ধার সব দিক থেকেই ব্রাজিল এগিয়ে। তবু গ্রুপ পর্বে জাপান যে আত্মবিশ্বাস ও লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তাতে তারা সহজে হার মানবে না বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, সামুরাই ব্লু কি বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও একটি চমক উপহার দিতে পারে, নাকি ব্রাজিলের শক্তির সামনে থেমে যাবে তাদের দুরন্ত অভিযান।