জার্মানিকে হারিয়ে ইতিহাস ইকুয়েডরের, ২০ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে ‘লা ট্রিকালাররা’

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে বড় অঘটনগুলির একটি ঘটাল ইকুয়েডর (Ecuador)। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে শুধু মূল্যবান তিন পয়েন্টই নয়, ইতিহাসও গড়ে ফেলল লাতিন…

ecuador-beats-germany-to-reach-world-cup-2026-knockout-stage

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে বড় অঘটনগুলির একটি ঘটাল ইকুয়েডর (Ecuador)। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে শুধু মূল্যবান তিন পয়েন্টই নয়, ইতিহাসও গড়ে ফেলল লাতিন আমেরিকার দেশটি। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল ইকুয়েডর। সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দলগুলির মধ্যে জায়গা নিশ্চিত করে শেষ ৩২-এ পৌঁছে গেল তারা। অন্যদিকে, হারলেও আগেই নকআউট নিশ্চিত করে ফেলেছিল জার্মানি।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল সম্পূর্ণ জার্মানির নিয়ন্ত্রণে। খেলা শুরুর মাত্র ১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের মধ্যেই ফ্লোরিয়ান ভির্ৎজের নিখুঁত পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লেরয় সানে। বিশ্বকাপে এটি ছিল সানের প্রথম গোল। পাশাপাশি ৩০ বছর বয়সে বিশ্বকাপে গোল করে একটি নতুন ব্যক্তিগত নজিরও গড়েন তিনি। শুরুটা দেখে মনে হচ্ছিল জার্মানি সহজেই ম্যাচ জিতে নেবে।

   

আরও দেখুনঃ CAB অ্যাপেক্স কাউন্সিল থেকে ইস্তফা আশিস চক্রবর্তীর, জোরাল বয়সসীমা বিতর্ক

কিন্তু সেই ধারণা খুব দ্রুত বদলে দেয় ইকুয়েডর। গোল হজম করার পর ভেঙে না পড়ে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় তারা। ম্যাচের নবম মিনিটেই দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরান নিলসন অ্যাঙ্গুলো। জার্মান রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ফিরে আসে ইকুয়েডর। এরপর প্রথমার্ধে দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও আর কোনও গোল হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জার্মানি পেনাল্টি পেলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (VAR) হস্তক্ষেপে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়।

এই মুহূর্তটাই যেন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আত্মবিশ্বাসে ভর করে ইকুয়েডর আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। মাঝমাঠে জার্মানদের চাপে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। ৭৭ মিনিটে কর্নার থেকে আসে ম্যাচের নির্ণায়ক গোল। প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় সুযোগে গঞ্জালো প্লাতা বল জালে জড়িয়ে দেন। সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইকুয়েডর। শেষ দিকে জার্মানি মরিয়া চেষ্টা চালালেও সমতা ফেরাতে পারেনি।

বরং ইকুয়েডর আরও একটি গোল করতে পারত, যদি না ম্যানুয়েল ন্যুয়ার একাধিক অসাধারণ সেভ করে দলকে বড় ব্যবধানের হার থেকে বাঁচাতেন।
শেষ বাঁশি বাজতেই আবেগে ভেসে যান ইকুয়েডরের কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেস। তিনি গ্যালারিতে উঠে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঐতিহাসিক জয় উদযাপন করেন। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন ইকুয়েডর সমর্থকদের উৎসবের আবহ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠার আনন্দে উচ্ছ্বসিত ছিল গোটা দল।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, “এখন আনন্দ করার সময়। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে এই মুহূর্ত উপভোগ করুন। চাইলে এক গ্লাস বিয়ারও পান করতে পারেন। বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় জয়। দেশের মানুষকে এমন একটি স্মৃতি উপহার দিতে পেরে আমরা গর্বিত।” এই সাফল্য আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ কারণ টুর্নামেন্টের শুরুটা একেবারেই ভালো ছিল না ইকুয়েডরের। প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল দলকে। অনেকেই তখন তাদের নকআউটের আশা শেষ বলে ধরে নিয়েছিলেন।

তবে কঠিন সময়েও নিজের দলের উপর আস্থা হারাননি কোচ বেকাসেস। তাঁর কথায়, “আমরা কখনও পরিকল্পনা বদলাইনি। নিজেদের ফুটবল দর্শনের উপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। আগের দুটি ম্যাচের ফল আমাদের পারফরম্যান্সের সঠিক প্রতিফলন ছিল না। আজ আমরা দেখিয়ে দিলাম, এই দল লড়াই করতে জানে।” জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলে নতুন বার্তা দিল ইকুয়েডর। এখন তাদের লক্ষ্য, এই ঐতিহাসিক সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নকআউট পর্বেও চমক দেখানো।