
আইপিএল শুরু মানেই ক্রিকেট উন্মাদনায় গোটা দেশ মেতে ওঠে। মাঠে বসে খেলা দেখার জন্য দর্শকদের আগ্রহও থাকে তুঙ্গে। আর সেই কারণেই প্রতি বছর ম্যাচের টিকিটের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হতেই মুহূর্তে সব শেষ হয়ে যায়। ফলে বহু সমর্থক টিকিট না পেয়ে হতাশ হন। কেউ পরিচিতির মাধ্যমে বিশেষ পাস জোগাড় করেন, আবার অনেকে বেশি দাম দিয়েও ব্ল্যাকে টিকিট কিনতে বাধ্য হন। আইপিএলে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ নতুন নয়। তবে এ বার দিল্লিতে এমনই এক বড় চক্রের খোঁজ পেয়েছে পুলিশ।
দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের দাবি, অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে হওয়া আইপিএল ম্যাচগুলির টিকিট ও কমপ্লিমেন্টারি পাস ব্ল্যাকে বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন দিল্লি অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (DDCA) কয়েক জন আধিকারিকও। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ম্যাচের জন্য যে বিনামূল্যের কমপ্লিমেন্টারি পাস দেওয়া হত, সেগুলিই পরে মোটা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হচ্ছিল।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই DDCA-র দুই CEO স্তরের আধিকারিক এবং তাঁদের এক ব্যক্তিগত সহকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের দাবি, এমন কিছু সদস্যের নামেও পাস বরাদ্দ করা হত, যাঁরা হয় মারা গিয়েছেন, নয়তো দীর্ঘদিন বিদেশে রয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই সেই পাস ব্যবহার হত না এবং পরে তা ফের সংগঠনের কাছেই ফিরে আসত। অভিযোগ, সেই অব্যবহৃত পাসই পরে ব্ল্যাক মার্কেটে বিক্রি করা হত অনেক বেশি দামে।
এই চক্রের তদন্তে নেমে ৮ মে স্টেডিয়ামের বাইরে একটি পেট্রোল পাম্প থেকে মুকিম, গুফরান এবং মহম্মদ ফৈসল নামে তিন জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ওই পেট্রোল পাম্পকেই টিকিট ও পাস বিলির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। শুধু তাই নয়, এই চক্রের সঙ্গে অনলাইন সাট্টাবাজ, পকেটমার বা অন্য অপরাধীদের যোগ রয়েছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। চক্রটি ধরতে বিশেষ কৌশল নেয় ক্রাইম ব্রাঞ্চ। এক পুলিশকর্মী নিজেকে সাধারণ ক্রেতা পরিচয় দিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
একটি টায়ার সারানোর দোকানে থাকা এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি সহজেই ব্ল্যাকে টিকিট জোগাড় করে দিতে পারবেন। পরে ওই পুলিশকর্মী ২৫ জন চিকিৎসকের জন্য পাসের ব্যবস্থা করতে বলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাতেও রাজি হয়ে যান এবং প্রমাণ হিসেবে একটি কমপ্লিমেন্টারি পাস দেখান। এরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে গোটা চক্রের পর্দাফাঁস করে। তদন্তে DDCA-র এক জিম ট্রেনার এবং কয়েক জন বিক্রেতার ভূমিকাও সন্দেহের তালিকায় এসেছে। এখন পুলিশ পুরো নেটওয়ার্কের খোঁজ চালাচ্ছে। আইপিএলের মতো জনপ্রিয় টুর্নামেন্টে টিকিট কালোবাজারি যে কত বড় আকার নিয়েছে, এই ঘটনা তারই আর এক উদাহরণ।

