পেট্রাপোল সীমান্তে বেড়ার কাজ তদারকিতে অশোক কীর্তনিয়া

petrapole-border-fencing-ashok-kirtania-inspection

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করার কাজ নতুন করে গতি পেল পেট্রাপোল এলাকায় (Petrapole)। সীমান্তে চলতি ফেন্সিং কাজ পরিদর্শনে যান রাজ্যের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সীমান্ত ঘেরা দেওয়ার কাজ কেমন চলছে, জমি সংক্রান্ত জটিলতা কোথায় তৈরি হচ্ছে এবং স্থানীয় মানুষের সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, তা খতিয়ে দেখতেই তাঁর এই সফর বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

   

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী জানান, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে এবং সেই লক্ষ্যেই সীমান্তে ফেন্সিং কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কিছু জায়গায় স্থানীয় বাসিন্দাদের জমি এবং পুকুর সীমান্তের অন্য পাশে পড়ে যাওয়ার কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই কারণে কাজ কিছুটা জটিল হলেও সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং সমাধানের পথ খুঁজছে।

আরও দেখুনঃ আইএসএল ট্রফি এ বার ইস্টবেঙ্গলেরই’, ডার্বির আগে আত্মবিশ্বাসী দেবব্রত সরকার

মন্ত্রী আরও জানান, সীমান্তে ফেন্সিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ইতিমধ্যেই বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (Border Security Force) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব জমির মালিকদের জমি এই প্রকল্পে ব্যবহৃত হয়েছে, তাঁদের যথাযথ ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উন্নয়ন এবং নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই কাজ এগোচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসনের একাংশ জানিয়েছে, পেট্রাপোল সীমান্ত এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ভারতের অন্যতম ব্যস্ত আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর। এই পথে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও পণ্য পরিবহন হয়। ফলে নিরাপত্তার দিক থেকে এই এলাকায় ফেন্সিং অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। তবে একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের জমি ও জীবিকা রক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, ফেন্সিং কাজের কারণে অনেকের জমি বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও পুকুর বা কৃষিজমি সীমান্তের অন্য পাশে পড়ে যাচ্ছে। এতে চাষাবাদ ও দৈনন্দিন কাজে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়ায় অনেকেই কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া স্পষ্ট করে বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ। তবে স্থানীয় মানুষের সমস্যাও আমরা অবহেলা করছি না। প্রতিটি বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।” তাঁর এই মন্তব্যে প্রশাসনিক দায়িত্ববোধের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিরও ইঙ্গিত মিলেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা ও জমি সংক্রান্ত এই ধরনের প্রকল্পগুলি দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্থানীয় স্তরে প্রায়ই জটিলতা তৈরি হয়। বিশেষ করে যখন কৃষিজমি বা জলাশয় প্রকল্পের আওতায় আসে, তখন মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব পড়ে। সেই কারণে সরকারের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়া উচিত।