অভিষেকে হিট বর্তমানে ফ্লপ! প্রতিভা থাকলেও জাতীয় দলে ‘অজ্ঞাতনামা’এই তিন স্পিনার

ক্রিকেটকে বলা হয়ে থেকে ‘জেন্টলম্যান্স’ গেম। তবে ২২গজের আঙিনায় এমন কিছু খেলোয়াড় রয়েছেন যারা তাঁদের অভিষেক টেস্টে ভালো পারফর্ম করে ভবিষ্যতের ‘তারকা’ হওয়ার আশা জাগালেও, ভাগ্যের ফেরে দ্রুত ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Updated:

Follow Us

ক্রিকেটকে বলা হয়ে থেকে ‘জেন্টলম্যান্স’ গেম। তবে ২২গজের আঙিনায় এমন কিছু খেলোয়াড় রয়েছেন যারা তাঁদের অভিষেক টেস্টে ভালো পারফর্ম করে ভবিষ্যতের ‘তারকা’ হওয়ার আশা জাগালেও, ভাগ্যের ফেরে দ্রুত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দ্রুত অদৃশ্য হয়ে যানা। পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব, ব্যাডলাক এবং আরও নানা কারণে তাঁদের আর ‘লং রেসের ঘোড়া’ হয়ে ওঠা হয়নি। ভারতীয় ক্রিকেটের (Team India) ইতিহাসেও এমন উদহারণ কম নেই। ভারতীয় খেলোয়াড়দের কথা বললে, সবচেয়ে বিশিষ্ট নাম নরেন্দ্র হিরওয়ানি এবং সুরিন্দর অমরনাথ। উত্তরপ্রদেশের রিস্ট স্পিনার হিরওয়ানি ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে তাঁর প্রথম টেস্টের উভয় ইনিংসে ৮টি করে উইকেট নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন; কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাঁর ক্যারিয়ার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। একইভাবে, সুরিন্দর অমরনাথকে একসময় দেশের সেরা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সুরিন্দর ছিলেন সম্পর্কে 1983 সালের বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের সহ-অধিনায়ক মহিন্দর অমরনাথের বড় ভাই। সুরিন্দর অভিষেক টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুর্দান্ত অভিষেক করেছিলেন। তবে তাঁর ছোট ভাইয়ের মতো সাফল্য পাননি। ভারতীয় দলের হয়ে মাত্র ১০টি টেস্ট এবং ৩টি একদিনের ম্যাচ খেলেই আন্তর্জার্তিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেন তিনি।

তবে শুধুমাত্র ব্যাটিংই নয়, বোলিংয়ের ইতিহাসেও এমন কিছু কিছু ভারতীয় ক্রিকেটার আছেন যারা তাঁদের অভিষেক টেস্টেই সেরা পারফরম্যান্স দিয়েছেন। কিন্তু তারপরেই তাঁরা সেই ভালো পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি। ফলে প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও তাঁরা হারিয়ে গিয়েছেন অনিশ্চয়তার জগতে। এই বোলারদের মধ্যে তিনজন স্পিনারের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একঝলকে দেখা নেওয়া যাক এই তিন স্পিনার সম্পর্কে।

   

India B vs India A: লাল বলের ক্রিকেটে ফিরলেন পন্থ

১.নরেন্দ্র হিরওয়ানি:ডানহাতি রিস্ট স্পিনার নরেন্দ্র হিরওয়ানি বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তবে উত্তরপ্রদেশে জন্মগ্রহণ করলেও ক্রিকেটে তাঁর হাতেখড়ি হয় মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরে। প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার সঞ্জয় জগদালের তত্ত্বাবধানে, হিরওয়ানি নিজের অফস্পিনের গুণমান বৃদ্ধি করেন এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে ভাল পারফর্ম করতে শুরু করেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর এই ধারাবাহিকতা ১৯৮৮ সালে ভারতীয় ক্রিকেট দলে তাঁর জায়গা পোক্ত করে দেয়। ভারতীয় ক্রিকেট জগতে ‘হিরু’ নামে পরিচিত এই তারকা চেন্নাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মাত্র ১৯ বছর বয়সে নিজের অভিষেক সম্পন্ন করেন। এছাড়াও ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ৬১ রানে ৮ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৫ রানে ৮ উইকেট নিয়ে তিনি প্রচারের আলোয় আসেন। ভারতের হয়ে লাল বলের ক্রিকেটে এটি এখনও পর্যন্ত যে কোনো বোলারের সেরা পারফরম্যান্স (১৬/১৩৬)। তবে এই কৃতিত্ব অজি পেসার বব মেসির (১৬/২০৮) থাকলেও তিনি হিরওয়ানির থেকে বেশি রান খরচ করেছেন।

সবথেকে চমকপ্রদ তথ্য হল যে হিরওয়ানি ১৯৮০-৯০ দশকের শক্তিশালী ইন্ডিজ দলের বিরুদ্ধে এই পারফরম্যান্স করেছিলেন যার মধ্যে ডেসমন্ড হেইন্স, ফিল সিমন্স, রিচি রিচার্ডসন, ভিভ রিচার্ডস, কার্ল হুপার এবং জেফ ডুজোনের মতো বিদ্ধংশী ব্যাটাররাও তাঁর উইকেটের শিকার ছিলেন। তবে প্রথম টেস্টে এই অতিমানবিক পারফরম্যান্স করার পরে, বিশ্ব ক্রিকেটে আর কখনও এমন পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি তিনি। ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে কিংবদন্তি লেগ স্পিনার অনিল কুম্বলে আসার পর হিরওয়ানি ‘পিছিয়ে’ শুরু করেন। ১৭টি টেস্ট এবং ১৮টি ওয়ানডে খেলেই তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পরিসমাপ্তি ঘটে। আন্তর্জার্তিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করার পরে হিরওয়ানি নির্বাচন কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

২.আবিদ আলী : হায়দ্রাবাদের ডানহাতি পেসার সৈয়দ আবিদ আলীর নামও এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ভারতের হয়ে তিনি যথাক্রমে 2৯টি টেস্ট এবং ৫টি ওয়ানডে খেলেছেন। ব্যাটিং এবং বোলিংয়ের পাশাপাশি, আবিদ একজন দুর্দান্ত ফিল্ডারও ছিলেন। সব ঠিক থাকলে কপিলদেবের পর বর্তমান সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তিনি হয়তো একজন ভালো অলরাউন্ডার হিসেবে প্রমাণিত হতেন। হায়দ্রাবাদ শহরে জন্মগ্রহণকারী আবিদ ১৯৬৭ সালের ডিসেম্বরে অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক করেছিলেন এবং প্রথম ইনিংসেই ১৭ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন। তাঁর শিকারদের মধ্যে বব সিম্পসন এবং বিল লরির মতো কিংবদন্তির নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে অভিষেক টেস্টে এই পারফরম্যান্সের পর কখনোই আর ইনিংসে ৫ উইকেট নিতে পারেননি আবিদ। আন্তর্জার্তিক ক্ষেত্রে ২৯ টেস্টে ১০১৮ রান (সর্বোচ্চ ৮১) এবং ৪৭ উইকেট (সর্বোচ্চ ৬/৫৫) নিয়ে বিদায় নেন তিনি। মনে করা হয় ভারতীয় ক্রিকেটে ‘হরিয়ানার হ্যারিকেন’ হিসাবে খ্যাত কপিলদেবের উত্থানের জন্যই সরে আসতে হয় হায়দ্রাবাদের এই অলরাউন্ডারকে।

৩. অমিত মিশ্র: হরিয়ানার অমিত মিশ্রকে ডানহাতি রিস্ট স্পিনার হিসাবে ‘উঁচু মর্যাদা’দিয়েছেন ভারতের ক্রিকেটবোদ্ধারা। যথেষ্ট প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও তাঁর যুগে অনিল কুম্বলে এবং হরভজন সিংয়ের মতো তারকাদের উপস্থিতির কারণে,অন্ধকারের মধ্যেই থেকে যেতে হয়েছিল তাঁকে । মিশ্র 2003 সালের এপ্রিল মাসে তার ওডিআই অভিষেক করেছিলেন কিন্তু টেস্ট অভিষেকের জন্য তাকে অক্টোবর 2008 পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। মোহালিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অভিষেক টেস্টে, তিনি প্রথম ইনিংসে ৭১ রানে ৫ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৩ রানে ২ উইকেট নিয়েছিলেন। ম্যাচে টিম ইন্ডিয়ার জয়ে মিশ্রের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল, কিন্তু এর পরে, তিনি পরের 21 টেস্টে কখনও এক ইনিংসে ৫ উইকেট নিতে পারেননি। মিশ্র, যিনি 22 টেস্টে 76 উইকেট নিয়েছেন, 36টি ওয়ানডেতে 64 উইকেট (সেরা 6/48), যার মধ্যে দুইবার এক ইনিংসে ৫ উইকেট রয়েছে। এটি মিশ্রের দুর্ভাগ্য যে ওডিআইতে ২৩.৬০ এবং টি-টোয়েন্টিতে ১৫ ওপর দুর্দান্ত বোলিং গড় থাকা সত্ত্বেও, তিনি ভারতীয় দলের(Team India) নিয়মিত সদস্য থাকতে পারেননি। তাকে শেষবার ভারতীয় জার্সিতে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে দেখা গিয়েছিল।

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google