সায়ন সেনগুপ্ত, কলকাতা: ২০১৪ বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) রেকর্ড ফিরে এল এবার আমেরিকায়। সেবার সেমিতে আয়োজক দেশকে ৭-১ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে উঠেছিল জার্মানি। সহজেই যা স্থান করে নিয়েছিল ইতিহাসের পাতায়। তারপর কেটে গিয়েছে আরো দুইটি বিশ্বকাপ। এবার সেই ফলাফলে জয় দিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু করল চারবারের বিশ্বজয়ীরা। তবে এবার প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণকারী দেশ কুরাসাওয়ে। খাতায় কলমে দেড় লাখের এই দেশের তুলনায় অনেকটাই এগিয়েছিল জার্মানরা। কাজেই ফলাফল কি হতে পারে তা ভালোমতোই জানা ছিল সকলের।
হয়েছেও ঠিক তেমনটাই। কিন্তু অসহায় আত্মসমর্পণ করেনি প্রতিপক্ষ দল। প্রথমার্ধের ৬ মিনিটের মাথায় ফেলিক্স এনমেচার করা গোলে এগিয়ে গিয়েছিল জার্মানি। তবে গোল হজম করলেও ম্যাচের বয়স বাড়ার সাথে সাথেই মাঝ মাঠে বল সাজিয়ে ঘন ঘন আক্রমণে উঠে আসতে থাকে কুরাসাওয়ের ফুটবলাররা। প্রথমদিকে জার্মান রক্ষণভাগে আটকে পড়লেও গোলের মুখ খুলতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ২১ মিনিটের মাথায় আসে বহু প্রতীক্ষিত গোল। দলের রাইট ব্যাক লিভানো কোমেনেন্সিয়ার দুরন্ত শটে বল চলে যায় গোলের মধ্যে। অসহায়ের মত সেদিকে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য হন বিশ্বজয়ী গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার।
যেটা রীতিমতো চমকে দিয়েছিল গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে এসে প্রথম ম্যাচেই জার্মানির মতো দলের বিরুদ্ধে সমতায় ফেরা নিঃসন্দেহে বিরাট বড় নজির। কিন্তু বজায় থাকেনি এই ফলাফল। বলতে গেলে অভিজ্ঞতাই যেন অন্তরায় হয়ে দাঁড়ালো প্রথমবার অংশ নেওয়া এই ফুটবল দলের। গোল হজম করার পর থেকেই যথেষ্ট আগ্রাসী হয়ে ওঠে গোটা জার্মান শিবির। তারপর ৩৮ মিনিটের মাথায় দলকে এগিয়ে দিয়ে যান জার্মান ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেক। তারপর বেশ কিছুক্ষণ মাঝ মাঠে বল দখলের লড়াই চলে দুই শিবিরের মধ্যে। এসবের মাঝেই জার্মানির আক্রমণ প্রতিরোধ করতে গিয়ে পেনাল্টি দিয়ে বসেন কুরাসাওয়ের এক ফুটবলার। যথেষ্ট দক্ষতার সাথেই সেখান থেকে গোল করে যান বছর সাতাশের লুকাস হার্ভেৎস।
প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের বন্যা বইয়ে দিতে থাকে জার্মানি। ৪৭ মিনিটে গোল করেন মুসিয়ালা। তারপর ম্যাচের বয়স যত বেড়েছে ক্রিস্টোফার ব্রাউন থেকে শুরু করে দেনিজ উন্দাজের মত ফুটবলাররাও বল ঠেলে দিয়েছেন প্রতিপক্ষের গোলে। এমনকি ৮৮ মিনিটের মাথায় নিজের দ্বিতীয় গোল করে যান দলের ভরসাযোগ্য ফরোয়ার্ড লুকাস হার্ভেৎস। একের পর এক গোল হজম করলেও কিছুতেই মনোবল কমেনি প্রতিপক্ষের ফুটবলারদের। ব্যবধান যত বেড়েছে ততই চাপ বাড়িয়েছে, প্রথমবারের এই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দল। জার্মানির রক্ষণভাগে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আটকে যেতে হলেও ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বজায় থেকেছে তাদের আক্রমণাত্মক মনোভাব। যা রীতিমতো মন জয় করেছে সকলের।





