বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: ফিলাডেলফিয়ার মাঠে ফ্রান্সের সামনে একসঙ্গে (FIFA World Cup) দুটি চ্যালেঞ্জ ছিল—ইরাক এবং বৈরী আবহাওয়া। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও বাধাই থামাতে পারল না দিদিয়ের দেশঁর দলকে। প্রবল বৃষ্টি ও দীর্ঘ বিরতির মধ্যেও নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে ৩-০ গোলে ইরাককে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করল ফ্রান্স।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় ফরাসিদের। প্রথম মিনিটেই মানু কোনের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। যদিও ইরাকও শুরুতে কিছুটা সাহসী ফুটবল খেলেছিল। বাম দিক দিয়ে মার্চাস ডস্কি এগিয়ে গিয়ে ফরাসি রক্ষণে চাপ তৈরি করেন। তবে সেই আক্রমণ থেকে কোনও লাভ হয়নি।
ক্রমশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ফ্রান্স। মাইকেল ওলিসে ও কিলিয়ান এমবাপের দ্রুতগতির আক্রমণে বারবার চাপে পড়তে থাকে ইরাকের রক্ষণভাগ। ১৪ মিনিটে সেই চাপেরই ফল মেলে। ডান দিক থেকে ওলিসের সঙ্গে দুর্দান্ত ওয়ান-টু পাস খেলে বল পান এমবাপে। এরপর বক্সের বাইরে থেকে শক্তিশালী শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
এর মধ্যেই আবহাওয়ার অবনতি শুরু হয়। প্রথমার্ধ চলাকালীন ভারী বৃষ্টি নামলেও খেলা বন্ধ করা হয়নি। কিন্তু বিরতির পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। স্টেডিয়ামের আশপাশে বজ্রপাতের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় ফিফার নিরাপত্তা নিয়ম অনুসারে ম্যাচ স্থগিত রাখতে হয়। দর্শকদেরও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর আবার খেলা শুরু হয় এবং গ্যালারিতে ফিরে আসেন সমর্থকেরা।
দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে নেমে ফ্রান্স যেন আরও বেশি ক্ষুধার্ত হয়ে ওঠে। ৫৪ মিনিটে ইরাকের রক্ষণভাগের বড় ভুলের সুযোগ নিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপে। ডিফেন্ডার তাহসিন গোলকিপারের উদ্দেশে ঝুঁকিপূর্ণ পাস বাড়ান। গোলকিপার বল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে তা দখল করেন দেম্বেলে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বল বাড়িয়ে দেন এমবাপেকে এবং ফরাসি অধিনায়ক সহজেই জালে বল পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
দ্বিতীয় গোলের পর ইরাকের লড়াই কার্যত ভেঙে পড়ে। ৬৬ মিনিটে মাইকেল ওলিসের নিখুঁত থ্রু পাস থেকে তৃতীয় গোলটি করেন উসমান দেম্বেলে। এরপরও ফ্রান্স একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও আর গোল বাড়াতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানেই ম্যাচ শেষ হয়।
এই ম্যাচটি এমবাপের জন্য বিশেষ স্মরণীয় হয়ে থাকল। দেশের জার্সিতে শততম ম্যাচ খেলতে নেমে তিনি করলেন জোড়া গোল। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৬-তে। এর ফলে গার্ড মুলার এবং রোনাল্ডো নাজারিওর রেকর্ড টপকে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় উঠে এলেন। তাঁর সামনে এখন রয়েছেন শুধুমাত্র লিওনেল মেসি, যার বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা ১৮।
টানা দ্বিতীয় জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘আই’ থেকে প্রথম দল হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল ফ্রান্স। বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং দীর্ঘ অপেক্ষার পরও মাঠে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে চার ঘণ্টার দীর্ঘ ফুটবল নাটকের শেষে হাসল এমবাপে ও তাঁর দল।



