সায়ন সেনগুপ্ত, কলকাতা: শেষ কয়েক সিজন ধরেই যথেষ্ট ভালো পারফরম্যান্স করে আসছে এফসি গোয়া। টানা দুইবার দেশের সর্বভারতীয় কাপ টুর্নামেন্ট তথা সুপার কাপ এসেছিল তাদের ঘরে। স্প্যানিশ কোচ মানোলো মার্কেজের তত্ত্বাবধানে এই খেতাব জয় করেছিল দেশের প্রথম সারির ফুটবল ক্লাব। সেই সুবাদে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলার ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছিল আইএসএলের এই দলটি। গতবার কলকাতা ময়দানের অন্যতম প্রধান তথা ইস্টবেঙ্গল দলকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শিরোপা জয় করেছিল গোয়া। পরবর্তীতে আইএসএলে সাফল্য পাওয়ার লক্ষ্য থাকলেও সেটা সম্ভব হয়নি। তবে নিজের চেনা ছন্দেই ধরা দিয়েছিলেন ব্রাইসন ফার্নান্দেজ (Brison Fernandes)।
তবে মে মাসেই তার সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়েছে ক্লাবের। পরবর্তীতে একাধিক ক্লাব তাঁকে নিয়ে আগ্রহ দেখাতে শুরু করে। সময় এগোনোর সাথে সাথেই এই ফুটবলারকে নিয়ে উঠে আসতে থাকে নানা তথ্য। সেই নিয়েই এবার প্রেস বিবৃতির মধ্য দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিল এফসি গোয়া। যেখানে বলা হয়েছে, ‘এফসি গোয়া ব্রাইসনকে ধরে রাখতে চেয়েছিল। আমরা তাকে একাধিক চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিলাম, যার প্রতিটিই আগেরটির চেয়ে বেশি বেতনের ছিল। দু-এক দিন আগেও তার কাছে অন্য কোনো প্রস্তাব ছিল না। তার যা ছিল তা হলো, একজন এজেন্ট আমাদের দেওয়া প্রস্তাবগুলোকে ব্যবহার করে তাঁকে নিয়ে একটি কৃত্রিম দর কষাকষির লড়াই তৈরির চেষ্টায় সারাদেশের বিভিন্ন ক্লাবের কাছে তাকে তুলে ধরছিল।’
আরও পড়ুন: নয়া মরসুমে কোন দলে খেলবেন ব্রাইসন ফার্নান্দেজ?
আরও পড়ুন: লক্ষ্য মূলপর্ব! এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সহজ গ্রুপে ইস্টবেঙ্গল,
আরও বলা হয়, ‘ আমরা তাতে অংশ নিতে ইচ্ছুক ছিলাম না। কী ঘটছে তা স্পষ্ট হওয়ার পর, আমরা সরাসরি সেই ক্লাবের সাথে কথা বলেছি যেখানে সে যাচ্ছিল এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে আমাদের অবস্থান জানিয়েছি। একই কথা ব্রাইসনকেও জানানো হয়েছিল। অন্য ক্লাবটি যা বিনিয়োগ করতে চেয়েছে, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই, এবং এটি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব অধিকার।

আমরা যা বলব তা হল, ব্রাইসনকে এই ক্লাব এমন এক পর্যায় থেকে গড়ে তুলেছিল, যখন তার নিজের এজেন্টও তার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানত না। তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে, এফসি গোয়া কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই, নিজেদের খরচে তার চোট এবং সেরে ওঠার প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে চলেছে। এর বিনিময়ে, খেলোয়াড় এবং এজেন্ট উভয়ের পক্ষ থেকেই ক্লাবের প্রতি দেখানো বিবেচনা ছিল নামমাত্র। এটা নতুন কিছু নয়। এটা একটা পরিচিত কৌশল, একটি ক্লাবের প্রকৃত প্রস্তাবকে অন্য ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা। যেখানে প্রতিযোগিতা নেই সেখানে প্রতিযোগিতা তৈরি করা, এবং একে উচ্চাকাঙ্ক্ষা হিসেবে সাজিয়ে উপস্থাপন করা।’
সেইসাথে উল্লেখ করা হয়, ‘ এফসি গোয়া এখন বা ভবিষ্যতে, এই ধরনের নিলামের অংশ হতে চায়নি। যদি খেলোয়াড় বা তার প্রতিনিধি উপরোক্ত কোনো বক্তব্যের কোনো অংশ নিয়ে আপত্তি জানাতে চান, তাহলে আমরা যোগাযোগের সম্পূর্ণ নথি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে প্রস্তুত আছি। এফসি গোয়া ব্রাইসনের মঙ্গল কামনা করে।’


