দু দশক পর বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সামনে আর্জেন্টিনা, শক্তি-দুর্বলতার লড়াইয়ে এগিয়ে কে?

বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) শেষ চারে আবারও মুখোমুখি দুই ফুটবল পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। ২০১৮ সালের পর ফের সেমিফাইনালে জায়গা করে…

england-vs-argentina-world-cup-semi-final-strengths-weaknesses-analysis

বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) শেষ চারে আবারও মুখোমুখি দুই ফুটবল পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। ২০১৮ সালের পর ফের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আরও একবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে মাঠে নামবে। ইতিহাস, আবেগ এবং মর্যাদার লড়াইয়ের পাশাপাশি এই ম্যাচে বড় ভূমিকা নেবে দুই দলের কৌশল, শক্তি ও দুর্বলতা। দুই দেশের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহু পুরনো। বিশ্বকাপের স্মরণীয় কয়েকটি ম্যাচের সাক্ষী থেকেছে এই দ্বৈরথ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখনও পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা মোট ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে। সেখানে ইংল্যান্ডের জয় ছয়টি, আর্জেন্টিনার চারটি এবং বাকি ম্যাচগুলি ড্র হয়েছে। শেষবার দুই দল একে অপরের বিরুদ্ধে খেলেছিল ২০০৫ সালের নভেম্বরে। দীর্ঘ বিরতির পর আবার বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে তাদের সাক্ষাৎ, যা ম্যাচের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে প্রথমবার সেমিফাইনালে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলের মহারণ

বর্তমান দুই অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও হ্যারি কেনের জন্যও এই লড়াই আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। ২০০৫ সালে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হলেও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে তিনি মাঠে নামেননি। অন্যদিকে, কেন তখনও জাতীয় দলের সদস্য ছিলেন না। ফলে দুই দলের বর্তমান ফুটবলারদের কারওই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নেই। তবে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের কারণে একে অপরকে খুব ভালোভাবেই চেনেন তাঁরা। ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার এজরি কনসা ও স্ট্রাইকার ওলি ওয়াটকিন্স দীর্ঘদিন অ্যাস্টন ভিলায় খেলেছেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের সঙ্গে। চেলসিতে রিস জেমসের সতীর্থ আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এঞ্জো ফার্নান্দেজ। আবার টটেনহ্যাম হটস্পারে একসঙ্গে খেলেছেন হ্যারি কেন ও আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। তাই প্রতিপক্ষের শক্তি কিংবা দুর্বলতা সম্পর্কে দুই দলের ফুটবলারদের ধারণা যথেষ্ট স্পষ্ট।

আরও পড়ুন: চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ঝড় তুললেন এমবাপে, ভাইরাল গতির ভিডিও

ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের স্কোয়াডের গভীরতা। কোচ টমাস টুখেলের হাতে এমন এক দল রয়েছে, যেখানে প্রথম একাদশের বাইরে থাকা একাধিক ফুটবলারও সহজেই মূল দলে জায়গা পাওয়ার যোগ্য। দীর্ঘ টুর্নামেন্টে এই ধরনের বিকল্প বড় সুবিধা এনে দেয়। কোনও ফুটবলার ক্লান্ত হলে বা চোট পেলে একই মানের খেলোয়াড়কে মাঠে নামানো সম্ভব, যা নকআউট পর্বে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রক্ষণভাগও ইংল্যান্ডের অন্যতম ভরসা। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবদ্ধ ডিফেন্সের পরিচয় দিয়েছে তারা। বিশেষ করে আর্লিং হালান্ডের মতো ভয়ঙ্কর স্ট্রাইকারকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখা ইংল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়েছে। সংগঠিত রক্ষণ এবং মাঝমাঠের চাপ সৃষ্টি করার ক্ষমতা টুখেলের দলের বড় সম্পদ।

ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তাদের গতি। উইং ব্যবহার করে দ্রুত আক্রমণ গড়ে তোলা এবং মুহূর্তের মধ্যে রক্ষণ থেকে আক্রমণে উঠে যাওয়ার ক্ষমতা এই দলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। শারীরিক সক্ষমতার দিক থেকেও ইংল্যান্ড টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত একই ছন্দে খেলার মতো ফিটনেস রয়েছে অধিকাংশ ফুটবলারের।

সেট-পিস পরিস্থিতিতেও ইংল্যান্ড অত্যন্ত বিপজ্জনক। কর্নার কিংবা ফ্রিকিক থেকে গোল করার দক্ষতা তাদের অন্যতম অস্ত্র। উচ্চতায় এগিয়ে থাকার কারণে বক্সের ভেতরে হেডে গোল করার সুযোগও বেশি তৈরি করতে পারে তারা। চলতি বিশ্বকাপেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সেট-পিস থেকে গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছে ইংল্যান্ড।

তবে শক্তির পাশাপাশি কিছু দুর্বলতাও রয়েছে টুখেলের দলে। অনেক সময় ম্যাচের শুরুতে ইংল্যান্ড অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে পড়ে। এতে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ প্রতিপক্ষের হাতে চলে যায় এবং রক্ষণভাগ চাপে পড়ে। গ্রুপ পর্বে এমন পরিস্থিতির খেসারতও দিতে হয়েছে তাদের।

আরও একটি বড় সমস্যা হল, আক্রমণে বেশি ফুটবলার তুলে দিলে রক্ষণ লাইনের পিছনে বড় ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। আধুনিক ফুটবলে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ করা দলগুলির বিরুদ্ধে এই দুর্বলতা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। আর্জেন্টিনার মতো দল, যারা মুহূর্তের মধ্যে বল কেড়ে দ্রুত আক্রমণে উঠতে পারে, তারা এই জায়গাকেই লক্ষ্য করবে। লিওনেল মেসির নিখুঁত পাস, জুলিয়ান আলভারেজের দৌড় এবং আক্রমণভাগের গতি ইংল্যান্ডের ডিফেন্সকে কঠিন পরীক্ষার সামনে ফেলতে পারে।