বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: ১৯৯২ সালে ফিফা র্যাঙ্কিং চালুর পর এই প্রথমবার বিশ্বের শীর্ষ চার দল ফ্রান্স, আর্জেন্তিনা, স্পেন এবং ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের (FIFA World Cup ) শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম সেমিফাইনালে ওঠা চারটি দলই প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন সেমিফাইনাল লাইন আপ কার্যত রূপকথার মতো।
বুধবার আটলান্টায় আর্জেন্তিনা ও ইংল্যান্ডের মহারণ নিছক ফুটবল ম্যাচ নয়, এক ঐতিহাসিক চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায়। ১৯৮৬-তে মারাদোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’ বা ১৯৯৮-এ সিমিওনেকে লাথি মেরে বেকহ্যামের লাল কার্ড, এই দ্বৈরথ সবসময়ই বিতর্কে মোড়া। ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি তাঁর কেরিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই প্রথমবার তিনি ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছেন। টানা দুটি বিশ্বকাপ জিতে মারাদোনাকে ছাপিয়ে যেতে এবং পেলের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে খেতাব ধরে রেখে ইতিহাস গড়তে মরিয়া আর্জেন্তিনা। পিছিয়ে নেই ইংল্যান্ডও। তাদের দুই গোলগেটার জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেন দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। এই ম্যাচে তুল্যমূল্য লড়াই এর অপেক্ষায় গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা। ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপ ঘরে তুলতে মরিয়া থ্রি লায়ন্সরাও।
Also Read | চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ঝড় তুললেন এমবাপে, ভাইরাল গতির ভিডিও
অন্যদিকে, মঙ্গলবার আর্লিংটনে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও স্পেন। মাত্র দু’বছর আগে ইউরোর সেমিফাইনালে এই স্পেনের কাছেই ২-১ গোলে হেরেছিল ফরাসিরা। সেবার চোটের কারণে এমবাপের ধার কম থাকলেও, এবার তিনি সম্পূর্ণ ফিট এবং বিধ্বংসী ফর্মে। সঙ্গে রয়েছেন ডেম্বেলে। ওলিসে বা ড্যুয়ের মতো তরুণ প্রতিভায় ফরাসি আক্রমণভাগ এখন আরও ভয়ংকর। উল্টোদিকে, স্পেনের অ্যাটাকিং লাইন আপে গোল করার লোকের অভাব রয়েছে। গত দুই রাউন্ডে সুপার-সাব মিকেল মেরিনোর গোলেই কার্যত উদ্ধার পেয়েছে তারা। ফলে ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে ফ্রান্স বেশ কিছুটা এগিয়ে মাঠে নামবে।
Also Read | FIFA বিশ্বকাপে সুযোগ পেল ভারত! কাপ জেতার হুংকার রঞ্জিত বাজাজের
দলের লড়াইয়ের পাশাপাশি গোল্ডেন বুটের মহারণও তুঙ্গে। এমবাপে ও মেসি দুজনেই ৮টি করে গোল নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন। জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেনের ঝুলিতে রয়েছে ৬টি গোল। তবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণটি হলো বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড। ২১ গোল নিয়ে শীর্ষে থাকা মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন ২০ গোল করা এমবাপে।
সব মিলিয়ে এক নিখুঁত টুর্নামেন্ট ক্লাইম্যাক্সের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। একদিকে এমবাপের গতি ও ফরাসি দাপট, অন্যদিকে মেসির ম্যাজিক, স্প্যানিশ পাসিং এবং ইংল্যান্ডের প্র্যাকটিকাল ফুটবল, গ্র্যান্ড ফিনালের টিকিট কারা ছিনিয়ে নেয়, সেটাই এখন দেখার।





