FIFA World Cup: শেষ মুহূর্তের গোল বাতিল, বিতর্কের কেন্দ্রে আবারও ভি এ আর

সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তিতে ক্রোয়েশিয়ার সমতার গোল বাতিল। VAR সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর নতুন করে শুরু বিতর্ক।

croatia-disallowed-goal-var-controversy-portugal-fifa-world-cup-2026

বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: বিশ্বকাপে (FIFA World Cup ) প্রযুক্তির ব্যবহার ফুটবলকে আরও নির্ভুল করার উদ্দেশ্যে চালু হলেও, এ বারের আসরে ‘ভার’ (VAR) ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন পর্তুগালের বিরুদ্ধে ক্রোয়েশিয়ার শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়া গোল, যা শুধু একটি ম্যাচের ফলই বদলে দেয়নি, শেষ করে দিয়েছে ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ অভিযানও।

ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়া সমতা ফেরায় বলে মনে করা হয়েছিল। একটি আক্রমণে পর্তুগালের রেনাতো ভেগার মাথায় লেগে বল পৌঁছে যায় ইভান পেরিসিচের কাছে। সেখান থেকে বল যায় মারিয়ো পাসালিচের উদ্দেশে, পরে তিনি জসকো ভার্দিওলের কাছে পাস বাড়ান। ভার্দিওল গোল করে উচ্ছ্বাসে মাতিয়ে দেন সতীর্থদের। তখন মনে হচ্ছিল, ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে এবং ক্রোয়েশিয়া নতুন করে লড়াইয়ের সুযোগ পাবে।

   

কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি। মাঠের রেফারি প্রথমে গোলের স্বীকৃতি দিলেও পরে ‘ভার’-এর পরামর্শে সিদ্ধান্ত বদলান এবং গোল বাতিল ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই হতাশায় ভেঙে পড়েন লুকা মদ্রিচ ও তাঁর সতীর্থরা। অন্যদিকে, কিছুক্ষণ আগেও যারা দুশ্চিন্তায় ছিল, সেই পর্তুগাল শিবিরে শুরু হয় জয়ের উল্লাস।

প্রশ্ন উঠেছিল, সহকারী রেফারি যখন অফসাইডের পতাকা তোলেননি, তখন গোল বাতিল হল কেন? পরে ‘ভার’ কর্তৃপক্ষ পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা দেয়। তাদের দাবি, পেরিসিচের পাস পাসালিচের কাছে পৌঁছানোর আগে ইগর মাতানোভিচ বলটিতে খুব সূক্ষ্মভাবে স্পর্শ করেছিলেন। সেই স্পর্শ এতটাই সামান্য ছিল যে খালি চোখে বা টেলিভিশনের সম্প্রচারেও তা বোঝা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী, সেই স্পর্শের মুহূর্তটাই অফসাইড নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তখন পাসালিচ অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। ফলে পরবর্তী আক্রমণ থেকে গোল হলেও সেটি বৈধ হিসেবে গণ্য করা যায়নি।

এই সিদ্ধান্তের পর ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলাররা রেফারিকে ঘিরে তীব্র প্রতিবাদ জানান। মাঠে উপস্থিত সমর্থকেরাও ক্ষোভে ফেটে পড়েন। গ্যালারি থেকে জলের বোতল ও পানীয়ের ক্যান ছুড়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, এত সূক্ষ্ম স্পর্শের ভিত্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল বাতিল করা কতটা যুক্তিযুক্ত।

ফিফা অবশ্য জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ভিডিও রিপ্লের উপর নির্ভর করে নেওয়া হয়নি। বিশ্বকাপে ব্যবহৃত বিশেষ বলের ভেতরে থাকা মোশন সেন্সর চিপ প্রতিটি স্পর্শ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম। সেই তথ্য সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায় যে মাতানোভিচের স্পর্শের সময় পাসালিচ অফসাইডে ছিলেন। তাই নিয়ম মেনেই গোল বাতিল করা হয়েছে।

প্রযুক্তি ফুটবলে নির্ভুলতা আনলেও, এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল যে নিয়ম মেনে নেওয়া সিদ্ধান্তও অনেক সময় আবেগের কাছে বিতর্কিত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যখন একটি সূক্ষ্ম প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্তের কারণে একটি দলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়, তখন হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। তবে ফিফার দাবি, প্রযুক্তির উদ্দেশ্য কোনও দলকে সুবিধা বা অসুবিধায় ফেলা নয়, বরং মাঠে সঠিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা।