বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: বিশ্বকাপের মঞ্চে (FIFA World Cup) স্বপ্নের মতো শুরু করেও শেষরক্ষা করতে পারল না জর্ডন। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হারতে হল এশিয়ার প্রতিনিধিকে। এই পরাজয়ের ফলে জর্ডনের প্রথম বিশ্বকাপ অভিযান গ্রুপ পর্বেই শেষ হয়ে গেল। অন্যদিকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের জোরে নকআউট পর্বে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখল আলজেরিয়া।
ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই জর্ডন আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দেয়। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তারা রক্ষণভাগকে সুসংগঠিত রেখে পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সেই কৌশলই সফল হয় ৩৬ মিনিটে। মিডফিল্ডার নিজার আল রাশদান দূরপাল্লার এক অসাধারণ শটে আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানকে পরাস্ত করেন। বুটের বাইরের অংশ দিয়ে নেওয়া তাঁর বাঁকানো শট সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়। গোল হজম করার পরও প্রথমার্ধে আলজেরিয়া তেমন কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। ফলে বিরতিতে জর্ডন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে।
প্রথমার্ধের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটি পরিবর্তন আনেন আলজেরিয়ার কোচ। সেই সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ধীরে ধীরে বলের দখল ও আক্রমণের তীব্রতা বাড়াতে শুরু করে আফ্রিকার দলটি। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে রিয়াদ মাহরেজের নেওয়া কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে সমতা ফেরান বদলি ফুটবলার নাধির বেনবুয়ালি। গোলের পর আলজেরিয়া আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।
ম্যাচের শেষ দিকে জর্ডনের খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে আলজেরিয়া। অবশেষে ৮২ মিনিটে আসে জয়সূচক গোল। আরেকটি কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে বল জালে পাঠান আমিন গুইরি। অফসাইডের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে ভিএআর পরীক্ষা করা হলেও শেষ পর্যন্ত গোল বহাল রাখা হয়। সেই গোলই আলজেরিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দেয়।
এই জয়ের ফলে আলজেরিয়া গ্রুপ ‘জে’-তে অস্ট্রিয়ার সমান পয়েন্টে পৌঁছে যায় এবং নকআউটে ওঠার লড়াই জমে ওঠে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে মুখোমুখি হবে তারা। সেই ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করবে তাদের পরবর্তী ভাগ্য। পাশাপাশি আলজেরিয়ার এই জয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে নকআউট পর্বে পৌঁছে যায় আর্জেন্টিনা।
অন্যদিকে টানা দুই ম্যাচ হেরে জর্ডনের বিদায় নিশ্চিত হলেও তাদের পারফরম্যান্স প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই তারা প্রমাণ করেছে যে বড় মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য তাদের রয়েছে। বিশেষ করে প্রথমার্ধে আলজেরিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে চাপে রাখার কৃতিত্ব সহজে ভোলার নয়। তবে শেষ মুহূর্তে শারীরিক সক্ষমতার ঘাটতি এবং সেট-পিস রক্ষণে দুর্বলতা তাদের ভুগিয়েছে।
এখন জর্ডনের সামনে রয়েছে আর একটি ম্যাচ। তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তারা সম্মানজনকভাবে অভিযান শেষ করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তের এই জয় আলজেরিয়াকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। লড়াই করে ম্যাচ জেতার মানসিকতা দেখিয়ে তারা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে প্রস্তুত তারা।



