কলকাতা: তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত বিধাননগর পুরনিগমের চেয়ারপার্সন সব্যসাচী দত্তর বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁর হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে, তাঁকে সঙ্গে নিয়েই নদিয়ার তেহট্ট ও করিমপুরে তৃণমূল নেত্রী টিনা ভৌমিক সাহার জোড়া বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি চালাল বিধাননগর উত্তর থানা। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় প্রায় ৩ কেজি সোনার গয়না, যার বাজারমূল্য চার কোটি টাকারও বেশি! পাশাপাশি বেশ কিছু জমির দলিলও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, দিনকয়েক আগে সব্যসাচীর বাড়ি থেকে ৫০ কেজি সোনা কেনার রসিদ মিলেছিল। তদন্তকারীদের দাবি, সব্যসাচীর টাকাতেই বিপুল পরিমাণ ওই সোনা কিনে টিনার বাপের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়িতে মজুত রাখা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া গয়নার মধ্যে রয়েছে শাঁখা-পলা, হার, চুড়ি, লকেট ও চূড়। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার টিনাকে বিধাননগর থানায় তলব করা হয়েছে।
নদিয়া জেলা পরিষদের সদস্যা টিনা একসময় তৃণমূলের ‘বঙ্গজননী’র জেলা সভানেত্রী ছিলেন। রাজনৈতিক মহলে তিনি সব্যসাচী-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও নিজ দলেই বিতর্কমুক্ত নন। বিধায়ক তাপস সাহার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সংঘাত কারও অজানা নয়। এমনকী টিনার বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছিলেন বিধায়ক।
অন্যদিকে, এই বিপুল সোনা উদ্ধারের ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বলে দাবি করেছেন টিনা। তাঁর কথায়, সব্যসাচী দত্তর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আদ্যোপান্ত রাজনৈতিক, যা তৈরি হয় ২০২৫ সালে। পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে তিনি বলেন, “আমার মা, ভাইয়ের স্ত্রী-সহ পরিবারের সাত জন মহিলার ব্যক্তিগত গয়না জোর করে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ।” এর বিরুদ্ধে তিনি আইনি পথে হাঁটবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
একের পর এক বিতর্কে এমনিতেই অস্বস্তিতে শাসকদল। তার উপর এক নেতার তদন্তে নেমে আরেক নেত্রীর বাড়ি থেকে কোটি টাকার সোনা উদ্ধারের ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।


