উত্তাল নদী, ভাঙা ব্রিজ! ডুয়ার্সে কাঁধে পড়ুয়াদের নিয়ে নদী পেরোচ্ছেন শিক্ষকরা

জলপাইগুড়ি: টানা বৃষ্টিতে ভাসছে উত্তরবঙ্গ। ভুটান পাহাড়ে লাগাতার বৃষ্টির জেরে তিস্তা-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে। আর এই ভরা বর্ষায় জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় ধরা পড়ল…

জলপাইগুড়ি: টানা বৃষ্টিতে ভাসছে উত্তরবঙ্গ। ভুটান পাহাড়ে লাগাতার বৃষ্টির জেরে তিস্তা-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে। আর এই ভরা বর্ষায় জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় ধরা পড়ল শিউরে ওঠার মতো এক ছবি। ফুঁসতে থাকা নদী পেরিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা। আর এই বিপদে দেবদূতের মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন স্কুলের শিক্ষকরা। শিশু পড়ুয়াদের কাঁধে-কোলে তুলে খরস্রোতা নদী পার করাচ্ছেন তাঁরাই।

ঠিক কী পরিস্থিতি ডুয়ার্সে?

ডুয়ার্সের নাগরাকাটা ব্লকের চেংমারি চা বাগানের মানা লাইন গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে কালিখোলা নদী। গত বছরের অক্টোবর মাসে ভয়াবহ বন্যায় এই গ্রামের সঙ্গে লোয়ার চেংমারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংযোগকারী একমাত্র সেতুটি ভেঙে যায়। তারপর থেকে যাতায়াতের জন্য নদীই একমাত্র ভরসা। গত দু’দিন ধরে ভুটান পাহাড়ে ভারী বৃষ্টির ফলে কালিখোলা নদীর জলস্তর আচমকাই অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রামবাসীরা।

   

শিক্ষকদের কাঁধই এখন ভরসা

উত্তাল নদী পেরিয়ে স্কুলে যেতে স্বাভাবিকভাবেই ভয় পাচ্ছে খুদে পড়ুয়ারা। কিন্তু পড়াশোনা তো আর বন্ধ থাকতে পারে না! তাই বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যেতে প্রতিদিন নদীর পাড়ে এসে দাঁড়াচ্ছেন স্কুলের শিক্ষকরা। তাঁরাই জামাকাপড় গুটিয়ে, জলে নেমে কোলে-পিঠে করে বাচ্চাদের নদী পার করিয়ে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছেন। স্কুল ছুটির পরেও একই ভাবে তাদের সুরক্ষিতভাবে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করছেন। শিক্ষকদের পাশাপাশি স্থানীয় অনেক বাসিন্দাও এই বিপদের দিনে খুদেদের পারাপারে সাহায্য করছেন।

স্থানীয়দের দাবি

চা বাগান এলাকার বাসিন্দাদের আক্ষেপ, বর্ষা এলেই তাঁদের এই দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। ফি বছর একই চিত্র ফিরে আসে। স্থানীয়দের জোরালো দাবি, অবিলম্বে কালিখোলা নদীর ওপর একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হোক। বর্ষার দাপট আগামী দিনে আরও বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে। তখন স্কুল পড়ুয়া তো বটেই, গোটা গ্রামের মানুষের পক্ষেই নদী পারাপার করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।