
ঝাড়গ্রাম: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়তেই প্রচারের ময়দানে আক্রমণাত্মক মেজাজে শাসকদল। এবার ঝাড়গ্রামের বিনপুরে নির্বাচনী জনসভায় গিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, রাজ্যে ভোট মিটলেই একধাক্কায় রান্নার গ্যাস ও পেট্রল-ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া করবে মোদী সরকার।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ
বিনপুরের জনসভা থেকে মূল্যবৃদ্ধি ইস্যুতে সরাসরি কেন্দ্রকে বিঁধেছেন অভিষেক। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরেই রান্নার গ্যাসের দাম একলাফে বেড়ে দু’হাজার টাকা হতে পারে। পাশাপাশি, পেট্রল ও ডিজেলের দামও লিটার প্রতি ২০০ টাকায় পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তৃণমূল নেতার অভিযোগ, শুধুমাত্র ভোটের দিকে তাকিয়েই সাময়িকভাবে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে কেন্দ্র। ফল ঘোষণার পরেই সেই বিপুল বোঝা সাধারণ মানুষের ঘাড়ে চাপানো হবে।
‘দিদি দিচ্ছেন, মোদী নিচ্ছেন’
রাজ্য ও কেন্দ্রের কাজের তুলনামূলক খতিয়ান তুলে ধরে তৃণমূল সেনাপতি বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নানা প্রকল্পের মাধ্যমে সাহায্য করে চলেছেন। অন্যদিকে, বিজেপি সরকার গ্যাস, জ্বালানি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। কেন্দ্রকে নিশানা করে তিনি বলেন, দিদি শুধু সাধারণ মানুষকে দিচ্ছেন, আর মোদী সরকার শুধু সাধারণ মানুষের থেকে নিচ্ছে।
‘ডেলি প্যাসেঞ্জার’ কটাক্ষ ও প্রার্থী ক্ষোভ
বিনপুর কেন্দ্রে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও এদিন তীব্র কটাক্ষ করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, এই কেন্দ্রে যাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে, তাঁর সঙ্গে এলাকার মাটি বা মানুষের কোনও সম্পর্ক নেই। এমনকি, স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বও সেই প্রার্থীকে মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না। এই সমীকরণে বিনপুরে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত বলে দাবি করেন তিনি। এর পাশাপাশি, বিজেপি নেতাদের ‘ডেলি প্যাসেঞ্জার’-এর সঙ্গে তুলনা করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, ভোট এলেই গেরুয়া শিবিরের নেতারা রোজ প্রচারে আসেন, কিন্তু নির্বাচন মিটে গেলেই তাঁদের আর টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যায় না।
উন্নয়নের বার্তা
সভার শেষে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে অভিষেক জানান, রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকলে উন্নয়নের ধারা এভাবেই অব্যাহত থাকবে। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলি কেড়ে নেওয়া হবে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের এই ঝাঁঝালো আক্রমণের পর স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর শোরগোল শুরু হয়েছে।

