কলকাতা: নবান্নে পালাবদলের পর থেকেই শিক্ষা দফতরে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলছিল। অবশেষে সোমবার সেই জল্পনা সত্যি হলো। নবান্ন থেকে পুনর্নিয়োগ পাওয়া আধিকারিকদের সরানোর নির্দেশ আসতেই একে একে ইস্তফা দিলেন স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। গত এক দশকে নিয়োগ দুর্নীতিতে বিদ্ধ শিক্ষা দফতরের ভাবমূর্তি বদলাতেই শুভেন্দু সরকার এই ‘অপারেশন ক্লিন’ শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। (SSC chairman resigns)
পদত্যাগের হিড়িক
২০২২ সালে নিয়োগ দুর্নীতির চরম ডামাডোলের সময় এসএসসির হাল ধরেছিলেন সিদ্ধার্থ মজুমদার। তাঁর মেয়াদ গত জানুয়ারিতে শেষ হলেও প্রাক্তন সরকার তা ছয় মাসের জন্য বাড়িয়েছিল। কিন্তু নতুন সরকারের স্বচ্ছতার বার্তার পরেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। অন্যদিকে, গত সপ্তাহে মাধ্যমিকের ফলাফল ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই ইস্তফা দিলেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি মুখ্যসচিবের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।
সরছেন আঞ্চলিক কর্তারাও
আন্দোলনের ঢেউ কেবল শীর্ষ পদেই সীমাবদ্ধ নেই। এসএসসির আঞ্চলিক কার্যালয়ের চেয়ারপার্সনরাও একে একে পদ ছাড়তে শুরু করেছেন। নবান্ন সূত্রে খবর, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে যাঁদের বয়স ৬০ পেরিয়ে গিয়েছে, তাঁদের দ্রুত কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
খোলনলচে বদলাচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, আগের জমানার দুর্নীতিগ্রস্ত কাঠামো সরিয়ে স্বচ্ছ প্রশাসন গড়াই তাঁর লক্ষ্য। সেই মতোই কলেজ ও স্কুলগুলোর গভর্নিং বডি বা পরিচালন সমিতির মেয়াদ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়া কমিটিগুলো ভেঙে দিয়ে নতুন ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধি নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, শিক্ষা দফতরকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতেই এই ব্যাপক রদবদলের পথে হাঁটছে বিজেপি সরকার। এখন দেখার, এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নতুন সরকারের পক্ষ থেকে কাদের নিয়োগ করা হয়।




















