ISL Clubs: ২০২৬-২৭ মরসুম থেকে ভারতীয় সুপার লিগ (আইএসএল) নতুন কাঠামোয় শুরু হতে চলেছে। সেই নতুন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ক্লাবকে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)-এর কাছে বছরে ১.১০ কোটি টাকা অংশগ্রহণ ফি জমা দিতে হবে। এই অর্থ দুই কিস্তিতে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ফেডারেশন। প্রথম কিস্তির ৫৫ লক্ষ টাকা জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ২০ জুলাই। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর দেখা গেল, ১৪টি ক্লাবের মধ্যে ১২টি ক্লাব ইতিমধ্যেই প্রথম কিস্তি জমা দিয়েছে। তবে এখনও অর্থ জমা দেয়নি জামশেদপুর এফসি এবং ইন্টার কাশি।
এআইএফএফ আগেই জানিয়েছিল, শুধু অর্থ জমা দিলেই হবে না, পাশাপাশি লিখিতভাবে আগামী মরসুমে অংশগ্রহণের সম্মতিপত্রও জমা দিতে হবে। এই দুই শর্ত পূরণ করলেই কোনও ক্লাবকে আইএসএলে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে।
সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে ইস্টবেঙ্গল এবং জামশেদপুর এফসি ফেডারেশনের কাছে অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করেছিল। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দেয় এআইএফএফ। যদিও ইস্টবেঙ্গলের ক্ষেত্রে তাদের পাওনা প্রাইজমানির সঙ্গে প্রথম কিস্তির অর্থ সমন্বয় করে দেওয়া হয়। ফলে লাল-হলুদ শিবির নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হয়।
অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়সীমার দিনই আবার এআইএফএফ-কে চিঠি পাঠায় জামশেদপুর এফসি এবং ইন্টার কাশি। দুই ক্লাবই জানায়, কিছু প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত সমস্যার কারণে তারা সময়মতো অর্থ জমা দিতে পারছে না। তাই আরও কিছু সময় দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। তবে এই নতুন আবেদনের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি এআইএফএফ।
ফেডারেশন অবশ্য আগেই স্পষ্ট করেছিল, নির্ধারিত সময়সীমার পরে কোনও ধরনের সময় বাড়ানোর আবেদন বা বিলম্বিত অর্থপ্রদান গ্রহণ করা হবে না। সেই অবস্থান এখনও বদলায়নি। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে, নির্দিষ্ট সময়ে অর্থ জমা না দেওয়া দুই ক্লাবের বিরুদ্ধে আদৌ কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি ঘোষণা করেনি এআইএফএফ।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ক্লাবকে মোট ১.১০ কোটি টাকা অংশগ্রহণ ফি দিতে হবে। প্রথম ৫৫ লক্ষ টাকার কিস্তির পর দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তি জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৪ আগস্ট। ওই সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ অর্থ জমা দিতে হবে সব ক্লাবকে।
২০২৬-২৭ মরসুম আইএসএলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে চলেছে। কারণ এবার থেকেই লিগ পরিচালনার দায়িত্ব মূলত ক্লাবগুলির হাতে থাকবে। বাণিজ্যিক পরিকল্পনা, বিপণন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম যৌথভাবে পরিচালনা করবে অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলি। তবে প্রতিযোগিতার ক্রীড়া সংক্রান্ত সমস্ত বিষয়, যেমন নিয়মকানুন, ক্লাব লাইসেন্সিং, শৃঙ্খলা এবং সামগ্রিক ফুটবল প্রশাসনের দায়িত্ব আগের মতোই এআইএফএফ-এর হাতেই থাকবে।
বর্তমানে ১৪টি ক্লাবের মধ্যে ১২টি প্রথম আর্থিক শর্ত পূরণ করলেও জামশেদপুর এফসি এবং ইন্টার কাশির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এখন সবার নজর এআইএফএফ-এর পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। ফেডারেশন কি তাদের অতিরিক্ত সময় দেবে, নাকি নিয়ম ভাঙার জন্য কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেবে, সেটাই আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিষ্কার হয়ে যাবে। একই সঙ্গে ১৪ আগস্টের দ্বিতীয় কিস্তির সময়সীমাও সব ক্লাবের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ সেই অর্থ জমা পড়লেই নতুন যুগের আইএসএলের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হবে।





