বিরাট ভাইয়ের কাছে চিরকৃতজ্ঞ’ ! কোহলির ‘গুরুমন্ত্রে’ সাত বছরের খরা কাটিয়ে চ্যাম্পিয়ন পিভি সিন্ধু

PV Sindhu : টানা সাত বছরের অপেক্ষার অবসান। চোট, ব্যর্থতা আর মানসিক লড়াই পেরিয়ে অবশেষে আবারও চ্যাম্পিয়ন পিভি সিন্ধু। রবিবার জাপান ওপেন জিতে ইতিহাস গড়েছেন…

PV Sindhu : টানা সাত বছরের অপেক্ষার অবসান। চোট, ব্যর্থতা আর মানসিক লড়াই পেরিয়ে অবশেষে আবারও চ্যাম্পিয়ন পিভি সিন্ধু। রবিবার জাপান ওপেন জিতে ইতিহাস গড়েছেন ভারতের তারকা শাটলার। এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জেতা প্রথম ভারতীয় হিসেবে নতুন নজিরও গড়েছেন তিনি। তবে এই সাফল্যের নেপথ্যে শুধু কঠোর অনুশীলন নয়, ছিল ভারতীয় ক্রিকেটের মহাতারকা বিরাট কোহলির দেওয়া মানসিক শক্তির বার্তাও। ট্রফি হাতে নিয়েই সেই কথা অকপটে স্বীকার করেছেন সিন্ধু।

শেষবার কোনও আন্তর্জাতিক খেতাব জিতেছিলেন ২০২৪ সালে, সৈয়দ মোদি ইন্টারন্যাশনালে। তারপর শুরু হয় দীর্ঘ খরার। বড় বড় প্রতিযোগিতায় প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। প্যারিস অলিম্পিকেও হতাশাজনক পারফরম্যান্স ছিল তাঁর। তার উপর চোটের ধাক্কা। বারবার কোর্টের বাইরে থাকতে হওয়ায় আত্মবিশ্বাস তলানিতে ঠেকে যায়। এমনও সময় এসেছিল, যখন নিজের কেরিয়ার নিয়েই সংশয়ে পড়েছিলেন সিন্ধু।

এই কঠিন সময়েই তিনি যোগাযোগ করেন বিরাট কোহলির সঙ্গে। একটি বার্তা পাঠানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তর দেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। পরের দিনই দু’জনের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সেই কথোপকথনে কী হয়েছিল, তা প্রকাশ করতে চাননি সিন্ধু। তবে এটুকু জানিয়েছেন, তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ছিল সেটি। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সিন্ধু বলেন, কেরিয়ারের সবচেয়ে খারাপ সময়েই বিরাটের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তখন চোটের জন্য খেলতে পারছিলেন না, পারফরম্যান্সও একেবারেই ভালো হচ্ছিল না। এমন একজন মানুষের প্রয়োজন ছিল, যিনি বড় মঞ্চের চাপ, প্রত্যাশা এবং ব্যর্থতার কষ্টটা অনুভব করতে পারেন। বিরাট সেই সময় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই আজও তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ সিন্ধু।

ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা আরও জানান, বিরাট খুব বেশি উপদেশ দেননি। কিন্তু অল্প কয়েকটি কথাই তাঁর চিন্তাভাবনা বদলে দেয়। এতদিন তিনি শুধু জেতা-হারার হিসেবেই নিজেকে বিচার করছিলেন। খেলার আনন্দটাই যেন হারিয়ে গিয়েছিল। বিরাট তাঁকে বুঝিয়েছিলেন, ট্রফি গুরুত্বপূর্ণ হলেও খেলার প্রতি ভালোবাসা আরও বেশি জরুরি। সেই উপলব্ধিই তাঁকে নতুন করে নিজের খেলাকে উপভোগ করতে শেখায়। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে সিন্ধুর মানসিকতা। অনুশীলনে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে, কোর্টেও তার প্রতিফলন দেখা যায়। চলতি মরশুমে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেললেও ট্রফি অধরাই ছিল। অবশেষে জাপান ওপেনে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল।ফাইনালে তাঁর সামনে ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। প্রতিপক্ষ ছিলেন জাপানের তারকা আকানে ইয়ামাগুচি। গত চার বছরে একবারও ইয়ামাগুচিকে হারাতে পারেননি সিন্ধু। তাই এই ম্যাচ ছিল শুধু একটি ফাইনাল নয়, নিজের অতীত ব্যর্থতার জবাব দেওয়ারও মঞ্চ।

চাপের মুখেও দুর্দান্ত লড়াই করে ইয়ামাগুচিকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেন ভারতীয় তারকা। এই জয় শুধু ট্রফিখরা কাটায়নি, ফিরিয়ে দিয়েছে তাঁর হারানো আত্মবিশ্বাসও। জাপানের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিন্ধু বুঝিয়ে দিলেন, কঠিন সময় যতই দীর্ঘ হোক, সঠিক মানসিকতা, পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে প্রত্যাবর্তন সম্ভব। আর সেই প্রত্যাবর্তনের গল্পে বিশেষ জায়গা করে নিলেন বিরাট কোহলি। কোর্টে না নেমেও এক চ্যাম্পিয়নের মানসিক লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। তাই ট্রফি জয়ের পর সিন্ধুর কণ্ঠে একটাই বার্তা কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য ‘বিরাট ভাই’-এর প্রতি তিনি চিরকৃতজ্ঞ।