পাঁশকুড়া: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election) প্রার্থী তালিকায় টিকিট না পাওয়ায় পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক সাংগঠনিক জেলায় তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন পশ্চিম পাঁশকুড়া বিধানসভার বিধায়ক সৌমেনকুমার মহাপাত্র। শনিবার নিজের বাড়িতে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি খোলাখুলি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
“আমি এখন প্রায় প্রাক্তন, পরিবারও প্রাক্তনের পথে”
সৌমেন মহাপাত্র বলেন, “আমি এখন প্রায় প্রাক্তন বিধায়ক। আমার স্ত্রীও প্রাক্তন কাউন্সিলর। তাই এই পরিবার এখন প্রাক্তনের পথে।” তিনি জানান, নিজের জেতা তমলুক বিধানসভা এবং নিজের বর্তমান আসন পশ্চিম পাঁশকুড়া, কোনওটাতেই এখনও দল থেকে কোনও ডাক আসেনি।
এবারের ঈদের শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানটি অন্যান্য বছরের মতো তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে হয়নি। সৌমেন পরিবারের উদ্যোগে ১০ নং ওয়ার্ডে নিজের বাড়িতেই এটি আয়োজিত হয়। তিনি বলেন, “দল যদি চায়, তমলুক বা পশ্চিম পাঁশকুড়ায় প্রচারে যাব। শুধু একটা ফোন করলেই হবে। কিন্তু এখনও কেউ কিছু বলেনি।”
প্রার্থীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে অভিমান
সৌমেন জানান, তৃণমূলের পশ্চিম পাঁশকুড়া প্রার্থী সিরাজ খান নামপ্রকাশের পর ফোনে বলেছিলেন যে সৌজন্য সাক্ষাতে যাবেন। কিন্তু তিনি আসেননি। পরে সিরাজ খান সাংবাদিকদের জানান, “আগের দিন যেতে পারিনি, আজই দেখা করব।” সৌমেনের কথায়, “এখনও সেই দেখা হয়নি।”
টিকিট বিক্রির অভিযোগ, দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ইঙ্গিত
সৌমেন মহাপাত্র আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, “বিভিন্ন জায়গা থেকে শুনছি টাকার বিনিময়ে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে, সাংগঠনিক পদ পাওয়া যাচ্ছে। সবটা হয়ত দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানেন না।” তিনি বলেন, “আমি বাড়িতে বসে আছি, কেউ যোগাযোগ রাখছে না। আগ বাড়িয়ে গেলে পরে হেরে গেলে দোষ আমার ঘাড়ে চাপবে।”
দলের প্রতি তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “এখনও এই দলে আছি। ভবিষ্যতে কী হবে, সেটা ভবিষ্যতই বলবে। দল ডাকলেই প্রচারে নামব, সাংগঠনিক কাজ করব। কিন্তু নিজে থেকে এগোতে চাই না।”
পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের অসন্তোষের ছবি
তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় রাজ্যের ৭৪ জন বিধায়ক-মন্ত্রী টিকিট থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক সাংগঠনিক জেলায় তিনজন সৌমেন মহাপাত্র (পশ্চিম পাঁশকুড়া), ফিরোজা বিবি (পশ্চিম পাঁশকুড়া) এবং বিপ্লব রায় চৌধুরী (পূর্ব পাঁশকুড়া/কোলাঘাট)। এই অসন্তোষ ভোটের আগে দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, ক্ষোভ-অভিমান ভুলে দলীয় নেতৃত্বের পরামর্শে কবে প্রচারে নামবেন সৌমেন মহাপাত্র? না হলে পাঁশকুড়া-তমলুক এলাকায় তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরতে পারে।




















