বিধানসভা নির্বাচনের উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহে ফের নতুন বিতর্ক ঘিরে সরগরম পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের “বহিরাগত ভোটার” তত্ত্ব, অন্যদিকে তার পাল্টা জবাবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya) বিস্ফোরক দাবি সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিচ্ছে।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছিলেন যে, বাইরে থেকে লোক এনে ভোট করানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার জন্য ভিনরাজ্য থেকে ভোটারদের আনা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তোলে। এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। এরই পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য(Shamik Bhattacharya) । তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে আংশিকভাবে সমর্থন করেই নতুন ব্যাখ্যা দেন। শমীকের ভাষায়, “মুখ্যমন্ত্রী ঠিকই বলেছেন যে আমরা বাইরে থেকে ভোটার আনছি, কিন্তু সেই ভোটাররা পশ্চিমবঙ্গেরই।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার ঝড় উঠেছে।
শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) দাবি করেন, রাজ্যের লক্ষাধিক পরিযায়ী শ্রমিক, যাঁরা জীবিকার কারণে গুজরাটের সুরাট, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, কর্ণাটকসহ বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করেন, তাঁরা ভোটের সময় নিজের রাজ্যে ফিরে আসছেন। তিনি জানান, প্রায় ৭৩টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে এই শ্রমিকরা নিরাপদে পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। তাঁর মতে, এটি কোনো বহিরাগতদের ভোট নয়, বরং বাংলার প্রকৃত বাসিন্দাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ।
তিনি আরও বলেন, “যাঁরা গুজরাটে কাজ করেন, মহারাষ্ট্রে কাজ করেন, তাঁরা কি বাংলার নাগরিক নন? তাঁরা তো এই মাটিরই সন্তান। তাঁরা শুধু জীবিকার কারণে বাইরে থাকেন।” শমীকের এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর ‘বহিরাগত’ তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং সেটিকে রাজনৈতিকভাবে বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন।এই মন্তব্যের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শমীকের বক্তব্যকে বিকৃত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, ভোটারদের ভিড় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে কারণ কিছু নির্দিষ্ট মহল নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে চাইছে। তাদের মতে, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই সবকিছু হচ্ছে এবং কোনো অবৈধ প্রক্রিয়া নেই।




















