গত সপ্তাহান্তে, জেফ বেজোসের মহাকাশ সংস্থা, ব্লু অরিজিন (Blue Origin), প্রথমবারের মতো সফলভাবে একটি রকেট বুস্টার পুনঃব্যবহার করে একটি বড় মাইলফলক অর্জন করেছে। তবে, এবার লঞ্চে একটি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় স্যাটেলাইটটি কাঙ্ক্ষিত কক্ষপথে পৌঁছাতে পারেনি। রিপোর্ট অনুসারে, লঞ্চের পর রকেটের উপরের স্তরটি কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় ধাক্কা বা থ্রাস্ট দিতে ব্যর্থ হয়, যার ফলে মিশনটি ব্যর্থ হয়। এই ঘটনার পর, সংস্থাটি তাদের নিউ গ্লেন রকেটের সমস্ত উৎক্ষেপণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে এবং একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
রবিবার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশন থেকে উৎক্ষেপণটি সম্পন্ন হয়। প্রথম পর্যায়ের বুস্টারটি সঠিকভাবে কাজ করে এবং সমুদ্রে থাকা একটি বার্জের ওপর সফলভাবে অবতরণ করে। তবে, পরবর্তীকালে উপরের পর্যায়ে সমস্যা দেখা দেওয়ায় স্যাটেলাইটটিকে সঠিক কক্ষপথে স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
কোম্পানির সিইও ডেভ লিম্পের মতে, প্রাথমিক তথ্য থেকে জানা গেছে যে আপার স্টেজের একটি ইঞ্জিন পর্যাপ্ত থ্রাস্ট বা ধাক্কা দিতে পারেনি। ফলে, স্যাটেলাইটটি তার নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় এবং মিশনটিকে অসফল বলে ঘোষণা করা হয়।
এই স্যাটেলাইটটি এএসটি স্পেসমোবাইলের নেটওয়ার্কের অংশ হওয়ার কথা ছিল, যার লক্ষ্য হলো স্যাটেলাইট থেকে স্মার্টফোনে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা। তবে, স্যাটেলাইট এবং রকেটের উপরের স্তর উভয়ই এখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশ করেছে।
এটি ছিল নিউ গ্লেন রকেটের তৃতীয় ফ্লাইট, যা কোম্পানিটি বৃহৎ পেলোডকে কক্ষপথে পাঠানোর জন্য তৈরি করছে। উল্লেখ্য যে, নাসা তার আর্টেমিস মিশনের অংশ হিসেবে চাঁদে একটি ল্যান্ডার পাঠাতেও এই একই রকেট ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে।
প্রায় ৯৮ মিটার উঁচু এই রকেটটির নামকরণ করা হয়েছে জন গ্লেনের নামে। সংস্থাটি এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বর্তমানে এই ব্যর্থতার ঘটনাটি তদন্ত করছে, যার পরে পরবর্তী উৎক্ষেপণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




















