
নয়ডা: নয়ডার ১৩ এপ্রিলের হিংসাত্মক ঘটনা কোনও সাধারণ শ্রমিকদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছিল না। (Noida labour unrest)উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে, এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যা শিল্পাঞ্চলকে অস্থির করে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্যে চালানো হয়েছিল। এই পরিকল্পনার মাস্টার মাইন্ড হিসেবে নাম উঠে এসেছে আদিত্য আনন্দের। কয়েকজন ব্যক্তি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে হাতিয়ার বানিয়ে পুরো এলাকায় আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন।সবকিছু শুরু হয়েছিল নয়ডা ও গ্রেটার নয়ডার বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, সুবিধা ও কাজের পরিবেশ নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ থেকে।
কিন্তু ১৩ এপ্রিল সকাল থেকে পরিস্থিতি হঠাৎ পাল্টে যায়। শতাধিক কারখানার সামনে জড়ো হওয়া হাজার হাজার শ্রমিকের মধ্যে কিছু অংশ ভাঙচুর শুরু করে। গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়, পুলিশের উপর পাথর ছোড়া হয়, রাস্তা অবরোধ করা হয়। পুরো এলাকা যেন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশকে টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করতে হয়। অনেকে আহত হন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। প্রথম দিকে অনেকেই ভেবেছিলেন, এটা শুধু শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ।
আরও দেখুনঃ মমতার প্রস্তাবকের বাড়িতে ৮.০৮ কেজি ওজনের সোনার বাট কার! প্রশ্ন তুলল বিজেপি
কিন্তু তদন্ত যত গভীরে গেছে, ততই বেরিয়ে এসেছে এক ভয়ঙ্কর পরিকল্পনার ছবি।উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের যৌথ তদন্তে উদ্ধার হয়েছে ‘এক্স-স্টর্ম’ নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের তথ্য। এই গ্রুপে ২৭৪ জনেরও বেশি সদস্য ছিলেন। গ্রুপটি তৈরি করা হয়েছিল ৯-১০ এপ্রিল, অর্থাৎ প্রতিবাদ শুরুর ঠিক আগে। গ্রুপ অ্যাডমিনরা কিউআর কোডের মাধ্যমে শ্রমিকদের যুক্ত করেন। গ্রুপে প্ররোচনামূলক ভিডিও, মিথ্যা খবর ও উস্কানিমূলক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
বলা হয়, “পুলিশ গুলি চালিয়েছে, অনেক শ্রমিক মারা গেছে” এমন ভুয়ো তথ্য। এসবের ফলে শান্ত প্রতিবাদ দ্রুত হিংসায় রূপ নেয়। পুলিশ বলছে, এই গ্রুপের মাধ্যমে অনলাইনে অস্থিরতা ছড়ানোর পরিকল্পনা ছিল, যাতে বিকেলে আবার হিংসা ছড়িয়ে পড়ে।এই ষড়যন্ত্রের মূল মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন আদিত্য আনন্দ। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এনআইটি) জামশেদপুর থেকে বিটেক করা এই যুবক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নয়ডায় কাজ করতেন।
কিন্তু পুলিশের তদন্ত বলছে, তিনি বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে শ্রমিকদের তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। ‘বিগুল মজদুর দস্তা’ সংগঠনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। ২০২৩ সাল থেকে তিনি একাধিক বামপন্থী ও ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। প্রতিবাদের সময় তিনি নোয়েডায় উপস্থিত ছিলেন এবং প্ররোচনামূলক বক্তৃতা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

