আমেরিকানরা চাঁদে বাস করবে! ২০৩০ সাল পর্যন্ত নাসার পরিকল্পনা কী?

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা চাঁদে একটি স্থায়ী মানব ঘাঁটি তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। নাসা এই পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ ঘোষণা করেছে। এই পরিকল্পনার অধীনে, সংস্থা চাঁদে রোবটিক…

NASA

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা চাঁদে একটি স্থায়ী মানব ঘাঁটি তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। নাসা এই পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ ঘোষণা করেছে। এই পরিকল্পনার অধীনে, সংস্থা চাঁদে রোবটিক ল্যান্ডার, ড্রোন এবং বিশেষায়িত যান পাঠাবে। এই যন্ত্রগুলো চন্দ্রপৃষ্ঠ অধ্যয়ন করতে এবং ভবিষ্যতে মানব বসতির জন্য প্রস্তুতি নিতে ব্যবহৃত হবে।

এই অভিযানের জন্য নাসা বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার সাহায্য নিচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছে ব্লু অরিজিন, ইনটুইটিভ মেশিনস এবং অ্যাস্ট্রোবোটিক। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মালিকানাধীন ব্লু অরিজিন ‘এন্ডুরেন্স’ নামে একটি বিশেষ চন্দ্রযান তৈরি করবে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই, অর্থাৎ ২০২৯ সালের মধ্যে, আবারও চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

   

আমেরিকার প্রতি চিনের চ্যালেঞ্জ
এই ক্ষেত্রে আমেরিকা চিনের সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতায় রয়েছে। চিনও ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্প্রতি, চিন তার শেনঝৌ-২৩ অভিযান শুরু করেছে এবং তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনে নভোচারীদের পাঠিয়েছে। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে মহাকাশ প্রতিযোগিতায় চিনও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

২০২৬ সালের মার্চে, নাসা চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে একটি স্থায়ী পারমাণবিক ও সৌরশক্তিচালিত ঘাঁটি নির্মাণের জন্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। নাসার প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আর কখনো চাঁদ ছেড়ে যাবে না।

নাসার এই পরিকল্পনাটি তিনটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে

প্রথম ধাপে, রোবটিক ল্যান্ডার ও ড্রোন চন্দ্রপৃষ্ঠের মানচিত্র তৈরি করবে এবং এর ভূখণ্ড অনুসন্ধান করবে। এমন যানও পাঠানো হবে যা ভবিষ্যতের মহাকাশচারীদের চাঁদ অন্বেষণ করতে এবং সেখানে জিনিস পরিবহনে সাহায্য করবে। অ্যাস্ট্রোবোটিকের গ্রিফিন-১ ল্যান্ডারটি চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে নোবিল ক্রেটারে অবতরণ করবে। নিরাপদ অবতরণ নিশ্চিত করার জন্য এই যানগুলোতে উচ্চ-রেজোলিউশনের ক্যামেরা এবং লেজার প্রযুক্তিও থাকবে।

নাসার লক্ষ্য হলো ২০২৯ সালের মধ্যে ২৫টি উৎক্ষেপণ পরিচালনা করা এবং চাঁদে প্রায় ৪ মেট্রিক টন কার্গো পৌঁছে দেওয়া। এরপর সেখানে পারমাণবিক চুল্লি এবং সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। ২০৩২ সালের মধ্যে আধা-স্থায়ী মানব বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

দক্ষিণ মেরু কেন গুরুত্বপূর্ণ?

চাঁদের দক্ষিণ মেরুকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়, কারণ সেখানে হিমায়িত বরফ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা পানীয় জল, অক্সিজেন এবং জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে, অনেক বিজ্ঞানী বলছেন যে নাসার নির্ধারিত সময়সীমা পূরণ করা কঠিন হবে, কারণ চাঁদে নিরাপদে মানুষ অবতরণ করানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।