আকাশ থেকে সুমুদ্রের দিকে ধেয়ে আসা রকেটকে ছোঁ মেরে ধরে ফেলল চিন

China: মহাকাশ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের প্রতিবেশী দেশ চিন এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। চিন মহাকাশ থেকে ফিরে আসা একটি বড় রকেটকে সমুদ্রে অবস্থিত একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্মে…

China: মহাকাশ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের প্রতিবেশী দেশ চিন এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। চিন মহাকাশ থেকে ফিরে আসা একটি বড় রকেটকে সমুদ্রে অবস্থিত একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্মে সফলভাবে অবতরণ করিয়েছে। এই সাফল্যের মাধ্যমে চিন বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নেট-ভিত্তিক পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা (net-based recovery system) ব্যবহার করে কোনো রকেটকে আয়ত্ত করার কৃতিত্ব অর্জন করেছে।

চায়না অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার হাইনান কমার্শিয়াল স্পেস লঞ্চ সাইট থেকে ‘লং মার্চ-১০এ’ (Long March-10A) রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের প্রায় ছয় মিনিট পর রকেটটির প্রথম ধাপ—যা ‘বুস্টার’ নামে পরিচিত—মূল অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পৃথিবীর দিকে ফিরে আসতে শুরু করে। নিয়ন্ত্রিতভাবে উল্লম্ব পথে নিচে নেমে আসার পর, সমুদ্রের ওপর স্থাপিত একটি পুনরুদ্ধার প্ল্যাটফর্মে পাতা জালের সাহায্যে বুস্টারটিকে ধরে ফেলা হয়।

স্পেসএক্স-এর প্রযুক্তির চেয়ে এই চিনা প্রযুক্তি কীভাবে আলাদা?
এতদিন ধরে মার্কিন ব্যবসায়ী ইলন মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্স তাদের ‘ফ্যালকন ৯’ রকেটগুলোকে সমুদ্রে অবস্থানরত ড্রোন-জাহাজের ওপর উলম্বভাবে (vertical) অবতরণ করিয়ে আসছিল। তবে চিন এক্ষেত্রে ভিন্ন এক পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। সরাসরি জাহাজের ডেক বা পাটাতনে অবতরণের পরিবর্তে, চিনা রকেটটিকে সমুদ্রের ওপর স্থাপিত একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্মের সাথে যুক্ত জালের সাহায্যে মাঝ-আকাশেই নিরাপদে ধরে ফেলা হয়েছে।

এই অর্জনটি কেন তাৎপর্যপূর্ণ?
এতদিন পর্যন্ত মহাকাশে পৌঁছানোর পর রকেটগুলো ধ্বংস হয়ে যেত, যার ফলে প্রতিটি অভিযানের খরচ অত্যন্ত বেশি হতো। কিন্তু পুনরায় ব্যবহারযোগ্য রকেট বারবার কাজে লাগানো সম্ভব, যা মহাকাশ অভিযানের খরচ নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দেয়।

চাঁদ অভিযানের প্রস্তুতি
চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে চিনের ভবিষ্যৎ অভিযানের জন্য এই সাফল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দশকের শেষ নাগাদ চিনা নভোচারী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম চাঁদে নিয়ে যাওয়ার জন্য ‘লং মার্চ-১০’ (Long March-10) সিরিজের রকেট তৈরি করা হচ্ছে। এই সাফল্যের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় চিন বিশ্বের সামনে তার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। এখন চীন অত্যন্ত কম খরচে নিয়মিতভাবে মহাকাশ অভিযান পরিচালনা করতে পারবে।