Gaganyaan Mission: ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) ভারতের প্রথম মানব মহাকাশ অভিযান ‘গগনযান’-এর ক্ষেত্রে আরও একটি বড় মাইলফলক অর্জন করেছে। মহাকাশে ভারতের পতাকা উত্তোলনের আগেই, ইসরো সফলভাবে একটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি জাহাজ-বাহিত টার্মিনালের পরীক্ষা চালিয়েছে, যা সমুদ্রের মাঝখান থেকে রকেট ও স্যাটেলাইট নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। চেন্নাই উপকূলের কাছে পরিচালিত এই সফল সমুদ্র পরীক্ষাটি প্রমাণ করেছে যে, মহাকাশ অভিযান পর্যবেক্ষণের জন্য ভারতকে আর বিদেশি প্রযুক্তি বা অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভর করতে হবে না।
সমুদ্রের মাঝখান থেকে রকেট ও উপগ্রহের ওপর নিবিড় নজর রাখার উদ্দেশ্যে তৈরি একটি দেশীয় প্রযুক্তির ‘শিপ-বর্ন টার্মিনাল’ (জাহাজ-ভিত্তিক টার্মিনাল)-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ইসরো। চেন্নাই উপকূলের অদূরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওশান টেকনোলজি (NIOT)-র গবেষণা-জাহাজ ‘সাগর মানুষ’-এ গত ২৬ জুলাই এই পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়। ইসরোর ‘ইস্ট্রাক’ (ISTRAC) এই পরীক্ষাটি পরিচালনা করে।
সমুদ্রের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় কেন এই ব্যবস্থার প্রয়োজন?
মহাকাশে উৎক্ষেপণের সময় রকেটটি দ্রুত ভূপৃষ্ঠ থেকে দূরে সরে যায় এবং সমুদ্রের ওপর দিয়ে অগ্রসর হতে থাকে। এমতাবস্থায়, স্থল-ভিত্তিক ট্র্যাকিং স্টেশনগুলোর আওতা বা সীমার বাইরে চলে যায়।
ইসরো (ISRO)-র তৈরি নতুন জাহাজ-ভিত্তিক টার্মিনালটি সমুদ্রে মোতায়েন করা জাহাজে ব্যবহৃত হবে। এটি রকেট ও মহাকাশযানের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করবে।
ISTRAC-ISRO tested and validated their indigenously built ‘Ship Borne Terminals (SBT)’ onboard NIOT’s Research Vessel ‘Sagar Manusha’ off Chennai on 26th July 2026. This system is meant to track launch vehicle trajectory, satellite tracking wherever land mass is not available and… pic.twitter.com/uPnMuWabA1
— MoES NIOT (@MoesNiot) July 29, 2026
গগনযান মিশনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে
গগনযান মিশন চলাকালীন ক্রু মডিউল এবং নভোচারীদের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই ব্যবস্থাটি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করবে।
তাছাড়া, এই মোবাইল টার্মিনালটি ভারত মহাসাগর বা সমুদ্রের এমন সব প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওপর দিয়ে যাওয়া স্যাটেলাইটগুলোকে সহজেই ট্র্যাক করতে পারবে, যেখানে কোনো গ্রাউন্ড-ভিত্তিক স্টেশন নেই।
এতদিন এ ধরনের ট্র্যাকিংয়ের জন্য ভারতকে বিদেশি প্রযুক্তি বা সীমিত সম্পদের ওপর নির্ভর করতে হতো। নিজস্ব প্রযুক্তির এই উদ্ভাবন কেবল ইসরোকে (ISRO) স্বনির্ভরতাই দেয়নি, বরং খরচও কমিয়ে আনবে।
এই সফল সমুদ্র-পরীক্ষার মাধ্যমে ভারত তার মহাকাশ-সংক্রান্ত সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। ‘মেড-ইন-ইন্ডিয়া’ বা ভারতে তৈরি এই ব্যবস্থাটি গগনযানের মানববিহীন ও মানববাহী—উভয় মিশনের সাফল্যের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে প্রমাণিত হবে।




