ভুয়ো ভোটারে বাংলার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে এই গেরুয়া রাজ্য

রাজস্থান: ভুয়ো ভোটার বিতর্কে এবার বাংলার সঙ্গে পাল্লা দিতে শুরু করেছে আরেক গেরুয়া রাজ্য (Rajasthan Fake Voter List Revision)। রাজস্থানে চলতি স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় খসড়া ভোটার ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
rajasthan-fake-voters-draft-electoral-roll-sir

রাজস্থান: ভুয়ো ভোটার বিতর্কে এবার বাংলার সঙ্গে পাল্লা দিতে শুরু করেছে আরেক গেরুয়া রাজ্য (Rajasthan Fake Voter List Revision)। রাজস্থানে চলতি স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৪২ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

রাজস্থানের রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নবীন মাহাজন মঙ্গলবার জানান, রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ কোটি ৪৬ লক্ষ ৫৬ হাজার ২১৫। এর মধ্যে ৫ কোটি ৪ লক্ষ ৭১ হাজার ৩৯৬ জন ভোটার তাঁদের এনিউমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছেন। তবে প্রায় ৪১ লক্ষ ৭৯ হাজার ভোটারের এনিউমারেশন ফর্ম সংগ্রহই করা যায়নি। এই কারণেই খসড়া তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

   

পুলিশ কর্মীকে গুলি করে পলাতক জৈশ জঙ্গি! উধমপুর ঘিরে ফেলেছে সেনা

নির্বাচন দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৮ লক্ষ ৭৫ হাজার জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় ২৯ লক্ষ ৬০ হাজার ভোটার অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছেন অথবা এনিউমারেশনের সময় অনুপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ৩ লক্ষ ৪৪ হাজার ভোটারের নাম একাধিক জায়গায় নথিভুক্ত ছিল, অর্থাৎ ডুপ্লিকেট এনরোলমেন্ট ধরা পড়েছে। এই সব কারণেই তাঁদের নাম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়। আরও প্রায় ১১ লক্ষ ভোটারকে নোটিস পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। এই ভোটারদের কাছে প্রাসঙ্গিক নথি জমা দেওয়ার আবেদন জানানো হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নথি জমা না পড়লে তাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় থাকবে কি না, তা নির্বাচন কমিশন বিবেচনা করে দেখবে।

নবীন মাহাজনের দাবি, “১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ৯২ শতাংশেরও বেশি ভোটার এনিউমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছেন। SIR-এর প্রথম পর্যায়ে সাধারণ মানুষের এই ব্যাপক অংশগ্রহণ অত্যন্ত ইতিবাচক।” তিনি জানান, রাজস্থানের মধ্যে জয়পুর জেলাতেই সবচেয়ে বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।

স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নির্বাচন দফতর বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। বুথ-ওয়াইজ তালিকা তৈরি করে পঞ্চায়েত ভবন, পুরসভা কার্যালয় এবং অন্যান্য নির্ধারিত জায়গার নোটিস বোর্ডে টাঙানো হবে সেই সব ভোটারের নাম, যাঁদের খসড়া তালিকায় রাখা হয়নি। শুধু নাম নয়, কেন তাঁদের নাম বাদ পড়েছে—তার সম্ভাব্য কারণও উল্লেখ থাকবে। ফলে সাধারণ মানুষ নিজের নাম যাচাই করার সুযোগ পাবেন।

১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত চলবে ক্লেম ও অবজেকশন পর্ব। এই সময়ের মধ্যে যে কোনও ভোটার বা রাজনৈতিক দল যোগ্য ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাতে পারেন কিংবা অযোগ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আপত্তি তুলতে পারেন। নির্বাচন দফতরের মতে, এই পর্যায়টাই চূড়ান্ত তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এই বিশাল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে রাজ্যজুড়ে বিপুল প্রশাসনিক পরিকাঠামো কাজে লাগানো হয়েছে। ৬১ হাজার ১৩৬টি ভোটকেন্দ্রে বুথ লেভেল অফিসারদের পাশাপাশি কাজ করেছেন ১৯৯ জন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার, ৮৫০ জন সহকারী ইআরও এবং জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা। পাশাপাশি আটটি প্রধান রাজনৈতিক দলের জেলা নেতৃত্ব ও ১ লক্ষ ৪ হাজার ৭১৩ জন বুথ লেভেল এজেন্টও এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google