কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রী মুখ প্রিয়াঙ্কা? ‘সর্বত্র দাবি উঠছে’, রবার্ট বঢরার মন্তব্যে জল্পনা

নয়াদিল্লি: কংগ্রেসের অন্দরে প্রধানমন্ত্রী পদের মুখ হিসেবে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরাকে তুলে ধরার দাবি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদের একটি মন্তব্যকে হাতিয়ার করে ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
Priyanka Gandhi PM face

নয়াদিল্লি: কংগ্রেসের অন্দরে প্রধানমন্ত্রী পদের মুখ হিসেবে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরাকে তুলে ধরার দাবি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদের একটি মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বিজেপি দাবি করেছে যে, কংগ্রেসের অন্দরেই এখন রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বের ওপর অনাস্থা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, প্রিয়ঙ্কার স্বামী রবার্ট বঢরা জানিয়েছেন যে, প্রিয়ঙ্কাকে রাজনীতিতে বড় ভূমিকায় দেখার দাবি এখন সব প্রান্ত থেকেই উঠছে।

প্রিয়ঙ্কা কি ‘দ্বিতীয় ইন্দিরা’? মাসুদের মন্তব্যে বিতর্ক এদিন ইমরান মাসুদ দাবি করেন যে, যদি প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে দেশের প্রধানমন্ত্রী করা হয়, তবে তিনি তাঁর ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধীর মতোই কড়া জবাব দিতে সক্ষম হবেন। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে তিনি বলেন, “প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী করে দেখুন, তিনি ইন্দিরা গান্ধীর মতোই প্রত্যাঘাত করবেন। তাঁর নামের পেছনে গান্ধী পদবি রয়েছে এবং তিনি সেই ইন্দিরার নাতনি যিনি পাকিস্তানকে এমন ক্ষত দিয়েছিলেন যা আজও সারেনি।” যদিও পরে বিতর্কের মুখে মাসুদ সাফাই দেন যে, রাহুল গান্ধীই তাঁদের নেতা এবং রাহুল-প্রিয়ঙ্কা আসলে ‘একই মুখের দুটি চোখ’।

   

বিজেপির তোপ: ‘জনমত ও জনপথ দুই-ই রাহুলের বিরুদ্ধে’ বিজেপি এই সুযোগ হাতছাড়া করেনি। গেরুয়া শিবিরের মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “ইমরান মাসুদ, শশী তারুর এবং প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর ঘনিষ্ঠরা এখন রাহুলের বিরুদ্ধে। রাহুল গান্ধীর পাশে এখন না আছে জনমত, না আছে জনপথ (গান্ধী পরিবারের বাসভবন)।” বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারি দাবি করেছেন যে, কংগ্রেসের অন্দরে এখন ‘রাহুল বনাম প্রিয়ঙ্কা’ শিবিরের লড়াই প্রকাশ্যে চলে এসেছে এবং রবার্ট বঢরা পরোক্ষভাবে রাহুলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।

বার্লিনে রাহুল: বিজেপির ‘ভারত বদনাম’ কটাক্ষ এই বিতর্কের মধ্যেই বার্লিনে হার্টি স্কুলে পড়ুয়াদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে, বিজেপি ভারতের সংবিধানকে ধ্বংস করতে চাইছে যা প্রতিটি নাগরিককে সমান অধিকার দেয়। রাহুলের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপি তাঁকে ‘লিডার অফ অপজিশন’ (বিরোধী দলনেতা)-এর বদলে ‘লিডার অফ প্রোপাগান্ডা’ বলে কটাক্ষ করেছে। পুনাওয়ালার দাবি, বিদেশে গিয়ে ভারতকে বদনাম করা এবং দেশের বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে বিষোদগার করা রাহুলের ‘ফুল টাইম জব’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সিপিআই(এম)-এর নিশানায় রাহুলের অনুপস্থিতি শরিক দলের থেকেও চাপের মুখে পড়েছেন রাহুল গান্ধী। সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস সংসদে রাহুলের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “যখন জনবিরোধী বিলগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা চলছে, তখন বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুলের উপস্থিতি কাম্য ছিল। কিন্তু তিনি কেন বিদেশে ভ্রমণ করছেন, তা নিয়ে দলকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” পাশাপাশি, শীতকালীন অধিবেশন শেষে প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চা-চক্র (Chai pe Charcha) অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়াকেও ‘ভুল বার্তা’ বলে সমালোচনা করেছেন ব্রিটাস।

সব মিলিয়ে, বিদেশের মাটিতে রাহুলের বক্তৃতা এবং দেশের মাটিতে প্রিয়ঙ্কাকে সামনে আনার দাবি— এই দ্বিমুখী চাপে ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের অন্দরে নেতৃত্ব নিয়ে টানাপড়েন এক নতুন মাত্রা পেল।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google