কলকাতা: বাংলার রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে (West Bengal)‘পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’। বিধানসভায় শনিবার এই বিল পেশ করে ধ্বনি ভোটে পাস করিয়ে নিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। বিলটির মূল কথা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান-উপপ্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি-সহ-সভাপতি এবং জেলা পরিষদের সভাধিপতি-সহ-সভাধিপতিদের বিরুদ্ধে বোর্ড গঠনের পর প্রথম তিন বছর অনাস্থা প্রস্তাব আনা যাবে না।
এর আগে এই সময়সীমা ছিল আড়াই বছর, আর তারও আগে মাত্র এক বছর। এই পরিবর্তনকে অনেকে দেখছেন ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের ‘আত্মরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে।পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বিলটি পেশ করার সময় বলেন, এর উদ্দেশ্য স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করা। কিন্তু বিরোধীরা, বিশেষ করে বিজেপি, এটাকে ‘দুর্নীতির ঢাল’ বলে কটাক্ষ করেছে।
আরও দেখুন: ইউনুস বিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই শাহবাগে ভারত বিরোধী মিছিল
তাদের দাবি, তৃণমূল জানে যে অনেক গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান, সভাপতি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। চুরি-দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ এসব অভিযোগে অনেকেই চাপে রয়েছেন। নির্বাচনের আগে যদি অনাস্থা প্রস্তাব আসে, তাহলে অনেকে দল ছেড়ে বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়তে পারেন। এই ভয় থেকেই তৃণমূল এই ‘তিন বছরের ইমিউনিটি’ এনে দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৩-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল, কিন্তু সেই জয়ের পেছনে ছিল সন্ত্রাস, বুথজ্যাকিংয়ের অভিযোগ। এখন সেই পঞ্চায়েতগুলোতে অনেক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ জমা হচ্ছে। গ্রামে গ্রামে লোকের ক্ষোভ বাড়ছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী এসব প্রকল্পের টাকা সঠিকভাবে না পৌঁছানো, মাঝখানে কেটে নেওয়া এমন অভিযোগ উঠছে।
যদি অনাস্থা প্রস্তাবের সুযোগ থাকত, তাহলে অনেক প্রধানকে সরিয়ে নতুন মুখ আনা যেত। কিন্তু এখন তিন বছর পর্যন্ত তারা ‘নিরাপদ’। এতে দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষও বাড়তে পারে, কিন্তু তৃণমূল মনে করছে, এই ঝুঁকি নেওয়াই ভালো।বিজেপি নেতারা বলছেন, এই বিল প্রমাণ করে তৃণমূল ২০২৬-এর নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে কাঁপছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বলেছেন, “আমরা আরও বেশি আসন পাব”, কিন্তু এই ধরনের বিল পাস করা দেখে মনে হয় দলের ভিতরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
পঞ্চায়েত স্তরে যদি দুর্নীতিগ্রস্ত নেতারা থেকে যান, তাহলে গ্রামের মানুষের ক্ষোভ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির দিকে ঢলে পড়তে পারে। অনেকে মনে করেন, এই বিল আসলে তৃণমূলের ‘সিঙ্কিং শিপ’-এর নেতাদের বাঁচানোর চেষ্টা।সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কেউ বলছেন, এতে উন্নয়নের কাজ ব্যাহত হবে না, স্থিতিশীলতা আসবে।
কিন্তু বেশিরভাগই মনে করছেন, এটা গণতন্ত্রের পরিহাস। পঞ্চায়েত তো জনগণের সরকার, সেখানে জনপ্রতিনিধিকে অপসারণের অধিকার থাকবে না তিন বছর? এতে দুর্নীতি আরও বাড়বে। বিরোধী দলগুলো এই বিলের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। আদালতে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।




















