ব্যাট-বলের দাপটে আমেরিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু ভারতের

ব্যাটিং ব্যর্থতার ছায়া সরিয়ে রাখল বোলারদের আগুনঝরা স্পেল। সূর্যকুমার যাদবের অনবদ্য ইনিংস আর সিরাজ-অর্শদীপদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে আমেরিকাকে ২৯ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup)…

india-vs-usa-t20-world-cup-match-report

ব্যাটিং ব্যর্থতার ছায়া সরিয়ে রাখল বোলারদের আগুনঝরা স্পেল। সূর্যকুমার যাদবের অনবদ্য ইনিংস আর সিরাজ-অর্শদীপদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে আমেরিকাকে ২৯ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup) অভিযান শুরু করল ভারতীয় দল (India vs USA)।

পাকিস্তানের ভারত বয়কটের রহস্য ফাঁস ডাচ ম্যাচে

ভারতের শক্তিশেল ভাঙতে পাল্টা শক্তিশেলের দরকার, এই আমেরিকার ঝুলিতে এখনও নেই। ক্রিকেটে শিক্ষানবিশ মার্কিন দলকে কাগজে-কলমে সহজ প্রতিপক্ষই মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু মাঠে ম্যাচটা ততটা সহজ হলো না। বিশেষ করে ভারতের ব্যাটিং অর্ডার যে এমন ধস নামাবে, তা কেউ ভাবেনি।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ভারত। আগ্রাসী শুরুর প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবটা উল্টো। কভারের উপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে আলি খানের বলে সঞ্জয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ‘গোল্ডেন ডাক’ অভিষেক শর্মার। ঈশান কিষান কিছুটা ঝাঁঝ দেখালেও ১৬ বলে ২০ রানে থামেন। তিলক বর্মা করেন ২৫। এরপর যেন উইকেটের মিছিল শিবম দুবে (০), রিঙ্কু সিং (৬), হার্দিক পাণ্ডিয়া (৫) একে একে ফিরে যান। পাওয়ার প্লে শেষে ভারতের স্কোরবোর্ডে ৪ উইকেটে মাত্র ৪৬।গত বিশ্বকাপের পর থেকে তৃতীয় সর্বনিম্ন।

এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই দাঁড়িয়ে যান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। একপ্রান্ত আগলে রেখে চাপের মধ্যে খেলেন দায়িত্বশীল অথচ ঝলমলে ইনিংস। অক্ষর প্যাটেলকে সঙ্গে নিয়ে ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। পরে লোয়ার অর্ডারকে সঙ্গে নিয়ে স্কোর টানেন সম্মানজনক জায়গায়। ৪৯ বলে ৮৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন সূর্য। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৬১, ব্যাটিং ব্যর্থতার পরও লড়াই করার মতো পুঁজি।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওয়াংখেড়ের আচরণ বুঝে নিয়েছিল ভারতীয় বোলাররা। আমেরিকার ব্যাটাররা সেই পাঠ নিতে পারলেন না। দ্বিতীয় ওভারেই আন্দ্রে গৌসকে ফেরান সিরাজ। পরের ওভারে অর্শদীপের বলে এলবিডব্লিউ মোনাঙ্ক প্যাটেল। এরপর আবার সিরাজের ঝলক-সাইতেজা সাজঘরে ফেরেন মাত্র ২ রানে। ১৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা মার্কিন ইনিংসকে সাময়িক স্বস্তি দেন মিলিন্দ কুমার ও সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি। তাঁদের জুটিতে আসে ৪৮ রান।

কিন্তু ছন্দ বেশিক্ষণ টেকেনি। অদ্ভুতভাবে স্টাম্পড হন মিলিন্দ। বড় শট মারতে গিয়ে ৩৭ রানে থামেন সঞ্জয়। এরপর নিয়মরক্ষার মতো উইকেট পড়ে। শেষ পর্যন্ত ১৩২ রানে থামে আমেরিকার ইনিংস।

১৯ মাস আগে ব্রিজটাউনের সেই মায়াবী রাত, মাঠের মাঝে তেরঙ্গা—সব এখনও টাটকা স্মৃতি। আবার কি তেমন দৃশ্য ফিরবে? আগাম বলা কঠিন। তবে একথা স্পষ্ট, সূর্যকুমারের দল এখনও ফেভারিটদের তালিকায় প্রথম সারিতেই। ব্যাটিংয়ে ধাক্কা এলেও, বোলিংয়ের জোরেই বিশ্বকাপ মিশনে জয় দিয়ে শুরু করল ভারত—বার্তাটা পরিষ্কার, এই দল জানে কীভাবে ম্যাচ বের করে আনতে হয়।