কলকাতা: অবশেষে বিলম্বিত বোধোদয় ঘটেছে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের (Satabdi)। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন, দলত্যাগী এবং বিদ্রোহীরা ফায়ার এলে তিনি এক মিনিটের মধ্যে পদত্যাগ করবেন। অভিষেকের এই মন্তব্যের জেরেই এবার মুখ খুললেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। তিনিও সংবাদ মাধ্যমের সামনে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। অভিষেক বন্দোপাধ্যায় এই ঘোষণা ৫ মে করলে হয়তো তৃণমূলকে এভাবে দুভাগে ভাগ হতে হত না। শতাব্দী আরও বলেন নির্বাচনে হার জিত রয়েছে কিন্তু তা বলে একটি রাজনৈতিক দল এভাবে ভেঙে যাবে তা হয়ত কারুরই ধারণার মধ্যে ছিল না।
#WATCH | Kolkata, West Bengal: On Abhishek Banerjee’s statement, MP Shatabdi Roy says, “… If this decision had been taken right after the election results were announced, things might have been different. Winning and losing are part of politics, but the party wouldn’t have come… pic.twitter.com/EmJxsv01lB
— ANI (@ANI) July 19, 2026
সবকিছুর শুরু চলতি বছরের মে মাসে। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পর দলের ভিত কেঁপে উঠেছিল। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল যেন এক রাতের মধ্যেই চেনা চেহারা হারিয়ে ফেলল। ফলাফল ঘোষণার পরদিন, ৫ মে থেকেই দলের অন্দরে অসন্তোষ ফুঁসে উঠতে শুরু করে।
আরও দেখুনঃ চিন-বাংলাদেশের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়ে মিজোরামে নতুন সামরিক ঘাঁটি তৈরী ভারতের
অনেক নেতা-কর্মী খোলাখুলি বলতে শুরু করেন যে, নেতৃত্বের পরিবর্তন না এলে দল আর টিকবে না। অনেকেই নাম করে বা না করে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কেই নিশানা করে দল ছাড়তে বাধ্য হন। কিন্তু সেই সময় কোনও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ফলে ধীরে ধীরে ভাঙনের স্রোত বেড়েছে। আজ এই জুলাই মাসে এসে দলের অবস্থা এমন যে, অধিকাংশ বিধায়ক এবং প্রায় ২০ জন লোকসভা সাংসদ দল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। শতাব্দী রায় নিজেও তাঁদের একজন। অনেকে নতুন গঠিত ‘এনসিপিআই’ (NCPI)-তে যোগ দিয়েছেন, কেউ কেউ অন্য শিবিরে।
ঠিক এই আবহে রবিবার কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শতাব্দী রায় তাঁর প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁর কথায় স্পষ্ট উঠে এসেছে হতাশা ও ক্ষোভ। “রাজনীতিতে হার-জিত থাকবেই। কিন্তু দল যেভাবে টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে গেল, সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক,” বলেন তিনি।
শতাব্দী আরও যোগ করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চ্যালেঞ্জ অনেক দেরিতে এসেছে। “৪ তারিখে ফল ঘোষণার পর ৫ মে-ই যদি অভিষেক এমন একটা সিদ্ধান্ত নিতেন, নেতৃত্বের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতেন বা দলত্যাগীদের ফেরানোর জন্য কঠোর পদক্ষেপ করতেন, তাহলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত। মমতাদির তৈরি করা এই দল এভাবে ভেঙে যেত না।”
শতাব্দীর এই মন্তব্যে ফের সরব রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাদের মতে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিদ্রোহীরা বুঝে গিয়েছে তাদের সময় শেষ। তাই বিজেপির গুড বুকে নাম তোলার জন্য তারা তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন।
আরও দেখুনঃ আমতলায় ‘অপারেশন বুলডোজার’! অভিষেকের ৫ তলা পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে দিচ্ছে প্রশাসন
অভিষেক শুধুমাত্র একটি অজুহাত মাত্র। তারা আরও বলেছেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের বোধোদয় তবুও হয়েছে কিন্তু গত ১৫ বছরে বিদ্রোহী সাংসদ এবং বিধায়কদের বোধোদয় কেন হল না সেটাও সন্দেহের উর্ধে নয়।





