সায়ন সেনগুপ্ত, কলকাতা ডেস্ক: শেষ দুইটি বিশ্বকাপ থেকেই যথেষ্ট দাপটের সাথে খেলতে দেখা গিয়েছিল ফরাসিদের। রাশিয়ার বুকে অলিভার জিরুড থেকে শুরু করে আতোয়া গ্ৰিজম্যানরা বিশ্বসেরা হলেও কাতারের বুকে সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি। টাইব্রেকারে তাদের টেক্কা দিয়ে বিশ্বসেরা হয়েছিলেন লিওনেল মেসিরা। সেই ধাক্কা কাটিয়ে এবারের এই ফুটবল বিশ্বকাপে সেরার সেরা হওয়ার স্বপ্ন ছিল ফরাসি ব্রিগেডের, কিন্তু সেমিফাইনালে স্প্যানিশ আর্মাডার কাছে ধাক্কা খেয়েই চুরমার হয়ে যায় ট্রফি জয়ের স্বপ্ন। তবে ভারতীয় সময় রবিবার রাত সাড়ে বাড়োটায় তৃতীয় স্থান অধিকারের ম্যাচে নেমেছিল ফ্রান্স।
যেখানে তাঁদের প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল হ্যারিকেন, জুড বেলিংহামদের ইংল্যান্ড। কার্যত এই ম্যাচের গুরুত্ব অপেক্ষাকৃত কম থাকলেও চুটিয়ে এই ম্যাচ উপভোগ করতে খুব একটা অসুবিধা হয়নি গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের। এদিন কার্যত দেখা যায় গোলের উৎসব। সম্পূর্ণ সময়ের শেষে মোট দশটি গোলের সাক্ষী থাকে ফুটবল অনুরাগীরা। সম্পূর্ণ সময়ের শেষে ৬-৪ গোলের ব্যবধানে এই ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নেয় ইংল্যান্ড ফুটবল দল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই হয়তো সর্বোচ্চ ব্যবধানে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ম্যাচ। এই ম্যাচে ব্রিটিশদের তরফে হ্যাটট্রিক করেন বুকায়ো সাকা। এছাড়াও গোল পান ডেক্লান রাইস,কন্সা এবং জুড বেলিংহাম।
ফ্রান্সের হয়ে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। এছাড়াও বাকি দুইটি গোল করেন বারকোলা এবং উসমান ডেম্বেলে। এক্ষেত্রে প্রথম একাদশে বেশ কিছু বল দেখা গিয়েছিল ব্রিটিশদের। তবে এরপরেও বদলায়নি আক্রমণাত্মক মানসিকতা। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড দল। গোল পান রাইস। তবে এগারো মিনিটের মাথায় গোলের সুযোগ এসে গিয়েছিল ফরাসিদের কাছে। কিন্তু পিক ফোর্ডের নৈপুণ্যে নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি। ঠিক তার এক মিনিটের মধ্যে গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেওয়ার পরিস্থিতি ছিল সাকার কাছে। যদিও সেটি কার্যকরী হয়নি। পরবর্তীতে দ্বিতীয় গোল করেন কন্সা।
তারপর ৩৭ মিনিটে সাকার গোল। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ফের গোল পান এই ফুটবলার। যারফলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ব্রিটিশরা। কিন্তু বিরতির পর একেবারে দুরন্ত ছন্দে ধরা দেয় ফরাসিরা। ১০ মিনিটের মধ্যেই ২ গোল করে বসে দুবারের বিশ্বজয়ীরা। গোলদাতা এমবাপে। তারপর ৫৪ মিনিটে বারকোলার গোল। ৬৬ মিনিটের মাথায় আসে এমবাপের ঐতিহাসিক গোল। এই ম্যাচে জোড়া গোল করার পাশাপাশি লিওলেন মেসির রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এগিয়ে যান এই ফরাসি ফুটবলার। বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেসির থেকে এক গোলে এগিয়ে থাকলেন তিনি। এক সময় যখন মনে হচ্ছিল যে সহজেই হয়তো ম্যাচে ফিরবে ফ্রান্স কিন্তু বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় পেনাল্টি।
৮৭ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন সাকা। পরবর্তীতে ডেম্বেলে গোল করে পুনরায় দলকে ম্যাচে রাখলেও শেষ পর্যন্ত তা আটকে দেন জুড বেলিংহাম।





