ক্ষমতায় আসছেন মমতাই! মত গেরুয়া রাজ্যের মুসলিম বিধায়কের

rafiqul-islam-west-bengal-elections-mamata-return

গুয়াহাটি: গুয়াহাটিতে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন এআইইউডিএফ বিধায়ক রফিকুল ইসলাম (Rafiqul Islam)। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তিনি একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সরাসরি নিশানা করেছেন, তেমনই অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে ফের মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেছেন।

গুয়াহাটিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, “পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে যেন পশ্চিমবঙ্গে ভোটে লড়ছেন নরেন্দ্র মোদী i, অমিত শাহ এবং যোগী আদিত্যনাথ নিজেরাই। এমনকি নির্বাচন কমিশনও যেন এই নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে জড়িত।” তাঁর এই মন্তব্যে কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

   

আরও দেখুনঃ বেঙ্গালুরুতে শুরু ‘স্পেশাল ২৫’! ভারতীয় টেস্ট দলের ভবিষ্যৎ গড়তে লক্ষ্মণের বিশেষ মিশন

তিনি আরও দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যা নজিরবিহীন। তাঁর মতে, এত বড় সংখ্যায় বাহিনী নামানোয় সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও একটি বিশেষ বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের তরফে বারবার বলা হয়েছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় জানান, তাঁর মতে পশ্চিমবঙ্গে আবারও তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি যা দেখছি, তাতে মনে হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও সরকার গড়বেন।” তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, অসমের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “৪ মে ফলাফল প্রকাশ হবে, আমরা আশা করছি আমাদের দলের জন্যও ফল ভালো হবে।” তিনি আরও বলেন, অসমে মানুষ পরিবর্তন চাইছে এবং সেই কারণে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট পড়ে থাকতে পারে। এখানেই শেষ নয়, রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, যদি অসমে অ-বিজেপি সরকার গড়ে ওঠে, তাহলে তাঁদের দল সেই সরকারকে সমর্থন করতে প্রস্তুত। তাঁর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ভবিষ্যতের জোট রাজনীতির দিকেও নজর রাখছে এআইইউডিএফ।

তবে তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভোটের আগে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ এই মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি সাধারণ মানুষের মনের প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের সময় এই ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য খুবই স্বাভাবিক। তবে এর মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয় কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। পশ্চিমবঙ্গ ও অসম দুই রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎই এখন অনেকটাই নির্ভর করছে আসন্ন ফলাফলের উপর।