
কলকাতা: বিজেপি সরকারের নির্দেশে রাজ্যে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কঠোর অভিযান। (Sougata Roy)এই অভিযানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সৌগত রায়। তিনি দাবি করেছেন, বাইরের মাইকের শব্দের মাত্রা নিয়ে হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। পুলিশের জোর করে মাইক খুলে নেওয়ার মতো পদক্ষেপ একেবারেই অনাবশ্যক এবং অনুচিত। এটিকে তিনি বিজেপির ‘সংখ্যালঘু দমনের প্রবণতা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
#WATCH | Delhi: TMC MP Saugata Roy says, “There is a high court order on how many decibels an outside mic has as far as sound is concerned. Forcible removal by police is not warranted, not called for. In Calcutta, already, there has been a protest by Muslims in the Raja Bazar… pic.twitter.com/vX4ws3KBtX
— ANI (@ANI) May 17, 2026
সৌগত রায় বলেন, “হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে বাইরের মাইকের শব্দ কত ডেসিবেল হতে পারে, তার স্পষ্ট নিয়ম রয়েছে। পুলিশের জোর করে মাইক সরিয়ে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কলকাতার রাজাবাজার এলাকায় পুলিশ যখন রাস্তায় নামাজ আটকাতে গিয়েছিল, তখন সেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ প্রতিবাদ করেছিলেন। এসবই বিজেপির সংখ্যালঘু দমনের প্রবণতা। আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব।”
আরও দেখুনঃ পার্কসার্কাসে মসজিদের লাউডস্পিকার ইস্যুতে উত্তেজনা চরমে
এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে ছড়িয়েছে উত্তাপ। সম্প্রতি কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলায় উৎসব, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহৃত মাইক ও সাউন্ড সিস্টেমের উপর পুলিশ কড়া নজরদারি শুরু করেছে। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে রাত ১০টার পর শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট ডেসিবেলের বেশি শব্দ না করার নিয়ম কঠোরভাবে পালন করতে বলা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, এটি শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয়।রাজাবাজারের ঘটনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে বলছেন, রাস্তা আটকে নামাজ পড়লে যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়। অন্যদিকে ধর্মীয় নেতারা বলছেন, ঐতিহ্যগতভাবে এই এলাকায় রাস্তায় নামাজ পড়া হয়। হঠাৎ করে আটকানো উচিত নয়।সৌগত রায়ের অভিযোগকে বিজেপি তীব্র প্রত্যাখ্যান করেছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, “এটি কোনো সংখ্যালঘু দমন নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
সব ধর্মের মানুষকে আইন মেনে চলতে হবে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ সবার স্বার্থে। তৃণমূল ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির জন্য ধর্মীয় বিভেদ তৈরি করছে।” রাজ্যের পরিবেশবিদ ও সাধারণ নাগরিকদের একাংশ মনে করেন, শব্দদূষণ সত্যিই একটি বড় সমস্যা। বিশেষ করে কলকাতার মত ঘনবসতিপূর্ণ শহরে অতিরিক্ত মাইকের শব্দে বয়স্ক মানুষ, শিশু ও অসুস্থ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

