
নয়াদিল্লি: গতকাল সংসদে সংখ্যা গরিষ্টতার অভাবে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ হয়নি। (Modi slams Congress)গত ১২ বছরের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেনি NDA জোটের সঙ্গে। তাই শনিবার সকালে জরুরি বৈঠকের পরেই প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন সন্ধেবেলা জাতির উদ্দেশ্যে তিনি ভাষণ দেবেন। ভাষণের শুরুতেই তিনি ভারতের মহিলাদের কাছে ক্ষমা চাইলেন এবং বললেন তাদের এই সংরক্ষণের প্রয়াস জারি থাকছে এবং থাকবে। তার সঙ্গে তিনি বলেন কংগ্রেস ব্রিটিশদের কাছ থেকে শেখা ‘ভাগ কর এবং শাসন করো’র রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন নিজেদের পরিবারতন্ত্র বাঁচিয়ে রাখতেই এই বিলের বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস।
ভাষণের মাঝে প্রধানমন্ত্রী একের পর এক সেই সব সংস্কারের তালিকা তুলে ধরেছেন, যেগুলোর বিরোধিতা কংগ্রেস ২০১৪ সাল থেকে করে আসছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়া, জিএসটি, ইডব্লিউএস সংরক্ষণ, তিন তালাক নিষিদ্ধকরণ, অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) এই প্রতিটি ইস্যুতে কংগ্রেস কীভাবে বাধা দিয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
আরও দেখুনঃ বিকাশ বসুর খুনের দিন কোথায় ছিলেন বালু-মুকুল?
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “কংগ্রেস শুধু বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত হয়নি, দেশকে ভুল পথে চালিত করেছে। সিএএ, এসআইআর, ওয়াকফ সংস্কার এবং অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বিতাড়ন এসব বিষয়েও তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে।” তিনি অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি এবং পরিবার তন্ত্রের কারণে দেশের উন্নয়ন বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।ভাষণের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত এসেছে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে।
ডিলিমিটেশনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিলটি যখন আটকে গেছে, তখন প্রধানমন্ত্রী মোদী দুই হাত জোড় করে দেশের মা-বোনদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমি দেশের সমস্ত মা ও বোনদের কাছে ক্ষমা চাইছি। নারী শক্তির স্বপ্ন আজ ভেঙে গেছে। এর জন্য আমি দুঃখিত।” এই মুহূর্তে সংসদ ও দেশের লাখ লাখ মানুষের মনে গভীর অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, মহিলা সংরক্ষণ বিলটি কোনও দলীয় বিষয় নয়, এটি জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন।
কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দল যদি এটিকে রাজনৈতিক খেলায় পরিণত না করত, তাহলে বিলটি অনেক আগেই পাস হয়ে যেত। তিনি বলেন, “আমি প্রস্তুত ছিলাম সব কৃতিত্ব বিরোধীদের দিতে, কিন্তু তারা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি।”ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বারবার উন্নয়নের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ২০১৪ সাল থেকে দেশ যে গতিতে এগিয়েছে, তা কংগ্রেসের আমলে কল্পনাও করা যেত না।
ডিজিটাল ইন্ডিয়া গ্রামের কোণায় কোণায় ইন্টারনেট পৌঁছে দিয়েছে, জিএসটি এক দেশ এক কর ব্যবস্থা চালু করেছে, অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীরকে মূলস্রোতে ফিরিয়ে এনেছে, তিন তালাক নিষিদ্ধ করে মুসলিম নারীদের অধিকার রক্ষা করেছে। কিন্তু প্রতিবারই কংগ্রেস বাধা দিয়েছে।

