কলকাতা: রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলার মাটিতে এখন এক নতুন হাওয়া বইছে। (Mekhliganj)তৃণমূল কংগ্রেসের একের পর এক ধাক্কা সামলাতে গিয়ে দলের নেতৃত্ব যেন হিমশিম খাচ্ছেন। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর এবার পৌরসভার নিয়ন্ত্রণও হাতছাড়া হতে শুরু করেছে তৃণমূল। কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ পৌরসভায় দলের চেয়ারম্যান প্রভাত পাটনি সহ পাঁচজন কাউন্সিলর দল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।
ফলে তৃণমূল সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে এবং পৌরসভার নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে কংগ্রেসের হাতে।ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার, ৫ জুন। মেখলিগঞ্জ পৌরসভায় মোট নয়টি ওয়ার্ড। নির্বাচনের পর টিএমসির আটজন কাউন্সিলর এবং একজন বিজেপির ছিলেন। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন প্রভাত পাটনি। কিন্তু দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ, নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলের পর স্থানীয় স্তরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন দেখা গেল এই গণদলত্যাগে।
আরও দেখুনঃধর্মেন্দ্রর পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে আরশোলাদের প্রতিবাদ
প্রভাত পাটনি সহ পাঁচ কাউন্সিলর আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে যোগ দেন। একজন কাউন্সিলর এখনও তৃনমূলে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফলে কংগ্রেস এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে পৌরসভা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পেয়েছে।যোগদানের পর প্রভাত পাটনি বলেন, “আমরা দলের মধ্যে আর কোনো আশা দেখতে পাইনি। সাধারণ মানুষের কাছে কাজ করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। আরও অনেকে আসতে পারেন।”
স্থানীয় কংগ্রেস নেতারা এই যোগদানকে বড় জয় হিসেবে দেখছেন। তাঁরা বলছেন, তৃণমূলের জনবিচ্ছিন্নতা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কোচবিহার জেলায় এর আগেও টিএমসির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এই ঘটনা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের অবস্থা এখন বেশ নড়বড়ে।
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলের অভ্যন্তরীণ কলহ , পদত্যাগ এবং দলত্যাগের ঢেউ প্রকাশ্যে। শতাধিক কাউন্সিলর ইতিমধ্যে বিভিন্ন পৌরসভায় পদত্যাগ করেছেন। ভাটপাড়া, হালিশহর, কাঁচড়াপাড়াসহ একাধিক জায়গায় তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে বা হারানোর মুখে। মেখলিগঞ্জের এই ঘটনা সেই তালিকায় নতুন সংযোজন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব, স্থানীয় নেতৃত্বের স্বেচ্ছাচারিতা এবং সাধারণ কর্মীদের ক্ষোভ এই সব ঘটনার মূলে রয়েছে।




















