নয়াদিল্লি: যন্তর মন্তরে শনিবার ৬ জুন শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে এক উল্লেখযোগ্য শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ (Jantar Mantar)কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সিবিএসই (CBSE)-র দ্বাদশ শ্রেণির উত্তরপত্র মূল্যায়নে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, যিনি সম্প্রতি আমেরিকার বস্টন থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে সমর্থকদের হাতে একটি করে বই এবং ভারতের জাতীয় পতাকা নিয়ে যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজকদের বক্তব্য, বই জ্ঞান ও শিক্ষার প্রতীক, আর তেরঙা দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে বহন করা হচ্ছে। তাদের দাবি, আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য কোনো রাজনৈতিক সংঘাত সৃষ্টি করা নয়; বরং শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি তুলে ধরা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, NEET-UG 2026 পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বহু মেধাবী পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাশাপাশি CBSE-র দ্বাদশ শ্রেণির উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়াতেও ব্যাপক অসঙ্গতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বলে তারা দাবি করছেন। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগের দাবিও জানানো হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ এই কর্মসূচির জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অনুমতি অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সুযোগ রয়েছে। কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, যন্তর মন্তর ও বিভিন্ন মন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের আশপাশে ১,০০০ থেকে ২,০০০ পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনি বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছিল। আন্দোলন বন্ধের দাবিতে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জরুরি আবেদন দায়ের করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেওয়ায় বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা অবশিষ্ট নেই বলে আয়োজকরা দাবি করেছেন। ফলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পথ আরও সুগম হয়েছে।
আন্দোলনের প্রতি দেশের বিভিন্ন মহল থেকে সমর্থনের কথাও সামনে এসেছে। লাদাখের খ্যাতনামা সমাজকর্মী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক এই কর্মসূচিতে সরাসরি যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিনেতা প্রকাশ রাজসহ একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও ছাত্র-যুবদের এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।




















