দম থাকলে বিদ্রোহীদের বিজেপির টিকিটে লড়ার নির্দেশ কীর্তি আজাদের

নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাংসদ কীর্তি আজাদ (Kirti Azad)। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘মা-মাটি-মানুষের’ দল তৃণমূল কংগ্রেসে দিদির আশীর্বাদ…

kirti-azad-on-tmc-rebels-and-bjp-challenge

নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাংসদ কীর্তি আজাদ (Kirti Azad)। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘মা-মাটি-মানুষের’ দল তৃণমূল কংগ্রেসে দিদির আশীর্বাদ ও অভিষেকের নির্দেশনায় সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২৯ জন সাংসদ জয়ী হয়েছিলেন। অথচ এখন যারা বিদ্রোহ করছেন, তাদের উদ্দেশে কীর্তি আজাদ প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচনের আগে সমস্যা ও অভিযোগ থাকলে কেন তা জানাননি?

   

নির্বাচনের পর কেন এত অভিযোগ উঠছে?কীর্তি আজাদ স্পষ্টভাবে বলেন, “যারা ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করছেন, তাদের বলছি সমস্যা থাকলে নির্বাচনের আগেই তা তুলে ধরা উচিত ছিল। নির্বাচনের পর এত অভিযোগ তোলা কেন? তিনি বলেন সুখেন্দু শেখর অভিযোগ করেছিলেন, তারপর দল ছেড়ে দিয়েছেন। সেটা ঠিক ছিল না ভুল ছিল, সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু অন্তত তিনি রাজনৈতিক নৈতিকতার পরিচয় দিয়েছেন।

আরও দেখুনঃ কল্যাণীর পর এবার কোলাঘাট! শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির তৃণমূলের জুন-শিউলি!

যে দলের টিকিটে রাজ্যসভায় গিয়েছিলেন, সেই দল ছেড়ে পদত্যাগ করেছেন। যদি আপনাদের মধ্যেও রাজনৈতিক নৈতিকতা থাকে, তাহলে আপনারাও পদত্যাগ করুন। বিজেপির টিকিটে নির্বাচনে লড়ুন। যদি সামান্য আত্মসম্মানবোধ, নৈতিকতা ও শালীনতা থাকে, তাহলে খোলাখুলি ঘোষণা করুন যে আপনারা আর তৃণমূল কংগ্রেসে নেই।”তিনি আরও বলেন, “আপনাদের এলাকায় যদি তৃণমূল কর্মীদের ওপর আক্রমণ হয়, তাহলে কল্যাণ (বন্দ্যোপাধ্যায়) দার নেতৃত্বে আমরা সেখানে ছুটে যাব এবং কর্মীদের পাশে দাঁড়াব।

কারণ আমরা নিজেদের মানুষকে বিশ্বাসঘাতকতা করি না।” কীর্তি আজাদ জোর দিয়ে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল একা হারেনি। “আমাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। সবাই মিলে একজোট হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে লড়েছে। এটা স্পষ্ট।”সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর দলের বিভিন্ন স্তরে ক্ষোভ ফেটে পড়েছে।

কয়েকজন বিধায়ক ও নেতা দলের হাইকমান্ডের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। এই পরিস্থিতিতে কীর্তি আজাদের মন্তব্য দলের মধ্যে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে। তিনি সুখেন্দু শেখরের উদাহরণ টেনে বিদ্রোহীদের নৈতিকতার পরীক্ষা নিয়েছেন। সুখেন্দু দল ছেড়ে পদত্যাগ করায় যে নজির স্থাপন করেছেন, সেটাকেই মানদণ্ড হিসেবে তুলে ধরেছেন কীর্তি।

তৃণমূলের একাংশ মনে করছে, নির্বাচনের আগে যেসব অভ্যন্তরীণ সমস্যা ছিল, সেগুলো সমাধান না করার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। কিন্তু কীর্তি আজাদের বক্তব্য অনুসারে, সময়মতো সমস্যা না তুলে নির্বাচনের পর অভিযোগ তোলা আসলে দলের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা। তিনি দলের কর্মীদের প্রতি আনুগত্যের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। বলেছেন, বিপদের সময় কর্মীদের পাশে না দাঁড়ানো মানে দলের মূল চেতনার বিরোধিতা করা।