কল্যাণীর পর এবার কোলাঘাট! শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির তৃণমূলের জুন-শিউলি!

মেদিনীপুর: নবান্ন ও কল্যাণীর পর এবার কোলাঘাট। প্রশাসনিক রাশ যে সম্পূর্ণ নিজের হাতে, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম…

June Malia and Sheuli Saha attend Shuvendu Adhikari Kolaghat meeting

মেদিনীপুর: নবান্ন ও কল্যাণীর পর এবার কোলাঘাট। প্রশাসনিক রাশ যে সম্পূর্ণ নিজের হাতে, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম, এই তিন জেলা নিয়ে কোলাঘাটে একটি প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকের আয়োজন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এই বৈঠকের মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়াল অভূতপূর্ব এক প্রশাসনিক কোলাজ। শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সশরীরে যোগ দিলেন  তৃণমূল সাংসদ জুন মালিয়া এবং কেশপুরের তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহা।

রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর যখন ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে তীব্র ডামাডোল চলছে, ঠিক তখনই মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে তৃণমূলের এই দুই হেভিওয়েট নেত্রীর উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

   

তৃণমূলের অন্দরে যখন মেগা সংকট

উল্লেখ্য, লোকসভায় ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদ দলনেত্রীর বিরুদ্ধে কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করে স্পিকার ওম বিড়লার দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন এবং এনডিএ জোটের দিকে পা বাড়িয়ে রেখেছেন। ওদিকে বিধানসভাতেও কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের এমন এক চরম সংকটকালীন মুহূর্তে এবং মেদিনীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে জুন মালিয়া ও শিউলি সাহার যোগদান নবান্নের সঙ্গে তৃণমূলের বাকি অংশের দূরত্ব আরও কমিয়ে দিল কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

উন্নয়নের বাধ্যবাধকতা নাকি ভবিষ্যতের ইঙ্গিত?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নিজের নিজের এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ এবং প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতার কারণেই এই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন জুন ও শিউলি। তবে অন্য একটি মহলের মতে, লোকসভা ও বিধানসভায় তৃণমূলের চেনা সংগঠন যখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে, তখন ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণের কথা মাথায় রেখেও এই ধরণের পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। কারণ যাই হোক না কেন, মঙ্গলবারের কোলাঘাটের এই বৈঠক স্পষ্ট করে দিল যে, দলমত নির্বিশেষে রাজ্যের প্রশাসনিক রাশ এখন পুরোদমে শুভেন্দু অধিকারীর নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।