দিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ নিয়ে বিজেপি রাজ্যসভা সাংসদ গুলাম আলি খাটানার তীব্র প্রতিক্রিয়া ( Muslim)। তিনি বলেছেন, এই ঘটনা আঞ্চলিক দলগুলোর কর্মসংস্কৃতির চেহারা স্পষ্ট করে দিয়েছে। কীভাবে তারা নিজেদের কর্মী ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দমিয়ে রাখে, সেটাই এখানে প্রকাশ পেয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোতে গণতন্ত্রের কোনো চিহ্ন নেই। পশ্চিমবঙ্গকে আইনের শাসনহীনতা ও অবৈধ অভিবাসীদের আখড়ায় পরিণত করার পেছনে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির ভয়াবহ পরিণতি দেখা যাচ্ছে। খাটানা তার মন্তব্যে স্পষ্ট বলেছেন তৃণমূলের মুসলিম তোষণই তাদের ধ্বংসের কারণ হয়েছে।
তিনি বলেছেন দীর্ঘদিন ধরে ভোটের রাজনীতি করে রাজ্যকে প্রান্তিক করে দেওয়া হয়েছে। এখন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। পশ্চিমবঙ্গ উন্নয়নের পথে এগোবে এবং বিকশিত ভারত গড়ার যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে যে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠেছে, তা দলের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। একাধিক বিধায়ক ও নেতা দলের হাইকমান্ডের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন।
আরও দেখুনঃ আদালতে তোলার সময় সব্যসাচী দত্তকে লক্ষ্য করে টমেটো-ডিম! ছোড়া হল গোবর
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইতিমধ্যে বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছে । এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে বিজেপি নেতা গুলাম আলি খাটানা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, এই বিদ্রোহ আঞ্চলিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রহীনতার প্রমাণ।খাটানা বলেন, “তৃণমূলের এই বিদ্রোহ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে আঞ্চলিক দলগুলোতে কর্মীদের কোনও মূল্য নেই। নেতৃত্বকে দমিয়ে রাখা হয়, কথা বলার স্বাধীনতা দেওয়া হয় না।
রাজনৈতিক দলগুলোতে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। পশ্চিমবঙ্গকে তারা আইনশৃঙ্খলাহীনতার কেন্দ্র বানিয়েছে। অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দিয়ে ভোটের রাজনীতি করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়েছে। শিল্প, বাণিজ্য, শিক্ষা সবকিছু পিছিয়ে পড়েছে। রাজ্যের সম্ভাবনাকে নষ্ট করা হয়েছে।” তাঁর মতে, দীর্ঘ পনেরো বছরের তৃণমূল শাসনে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা শোচনীয় হয়ে উঠেছিল।
কাটমানি, দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ আর অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য রাজ্যের আইনের শাসন বলে কিছু ছিল না। সাধারণ মানুষ ভয়ে কথা বলতে পারত না। শিল্পপতিরা রাজ্য ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। বেকারত্ব বেড়েছে, যুবসমাজ হতাশায় ডুবে গিয়েছে। ভোটব্যাঙ্কের জন্য একটা নির্দিষ্ট শ্রেণিকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয়েছে।
বিজেপি সাংসদ আরও বলেন, “এখন পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার চেয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার হলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলার অভাব, অবৈধ অনুপ্রবেশ সবকিছুর অবসান ঘটবে। পশ্চিমবঙ্গ আবার শিল্পের হাব হয়ে উঠবে। কৃষক, শ্রমিক, যুবক সকলের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। বাংলা আবার তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে। বিকশিত ভারতের স্বপ্ন পূরণে বাংলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”




















