‘বাবারা সব ক্ষমা করে দেন!’ অভিষেক নিয়ে পাল্টি কল্যাণের

কলকাতা: অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের মন্তব্যের ইস্যুতে বেসুরো হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। অভিষেকের মামলা থেকে তাকে সরে যেতে বলায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন তিনি। তবে গতকাল…

kalyan-banerjee-abhishek-banerjee-row

কলকাতা: অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের মন্তব্যের ইস্যুতে বেসুরো হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। অভিষেকের মামলা থেকে তাকে সরে যেতে বলায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন তিনি। তবে গতকাল অভিষেকের বলেছিলেন কল্যাণ তার বাবার মত কটু কথা বলতেই পারেন। এই মন্তব্যেই গলেছে বরফ।

   

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেকের এই মন্তব্যে এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি অভিষেককে নিজের ছেলের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, “সন্তানের সব ভুল বাবা ক্ষমা করে দেন।” একই সঙ্গে তিনি রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন।

আরও দেখুনঃ রেলে ১১,১২৭টি পদে আবেদনের শেষ সুযোগ, ১৪ জুনের মধ্যে আবেদন করুন

সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অভিষেক আমার ছেলের মতো। ছেলে যদি কোনো ভুল করে, তাহলে বাবার কাজ হল সেই ভুল ক্ষমা করে তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা। আমি তাকে সেই চোখেই দেখি।” তিনি আরও যোগ করেন, “কিন্তু দেশের গণতন্ত্র আজ বিপন্ন। পশ্চিমবঙ্গ কখনো এমন পরিস্থিতি দেখেনি যেখানে বিরোধী পক্ষ সম্পূর্ণরূপে মুছে যায়।

এই মুখ্যমন্ত্রী প্রতিহিংসাপরায়ণ। এটা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।”কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কিছু অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসছে। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সংগঠনের কার্যকলাপ, বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক পরিবর্তন এবং কিছু পুরনো নেতার অবস্থান নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা চলছে।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সবসময়ই একটি শক্তিশালী বিরোধী পক্ষ ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস সবাইকেই কোণঠাসা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি গণতন্ত্রের পক্ষে ‘বিপজ্জনক’ বলে চিহ্নিত করেছেন।কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “একজন মুখ্যমন্ত্রীর উচিত সবাইকে নিয়ে চলা। কিন্তু যদি প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু হয়, তাহলে গণতন্ত্র টিকে থাকবে কী করে?” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে, দলের অভ্যন্তরে এবং সরকারি স্তরে কিছু সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।