কলকাতা: আরজিকর কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ। (Sandip Ghosh)এবার তাঁর বেলেঘাটার বাসভবনে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ করল কলকাতা পুরসভা (KMC)। পুরসভার পক্ষ থেকে চূড়ান্ত নোটিশ জারি করে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অননুমোদিত নির্মাণ ভেঙে না ফেললে পুরসভা নিজেই তা গুঁড়িয়ে দেবে এবং সেই খরচ বাড়ির মালিকের কাছ থেকেই আদায় করা হবে।
কলকাতা পুরসভার নথি অনুযায়ী, বেলেঘাটার ৮৩, বদন রায় লেনের বাড়িটি সন্দীপ ঘোষ এবং তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা ঘোষের নামে রয়েছে। অভিযোগ, বাড়ির ছাদে পুরসভার অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ৫.৪২৫ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে এবং ২.০৫ মিটার উচ্চতার একটি কাঠামো বা পারগোলা নির্মাণ করা হয়েছিল। এই নির্মাণ কলকাতা মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং রুলস, ২০০৯-এর নিয়মবিরুদ্ধ বলে দাবি করেছে পুরসভা।
আরও দেখুনঃ ‘বাবারা সব ক্ষমা করে দেন!’ অভিষেক নিয়ে পাল্টি কল্যাণের
এই বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছিল। অবশেষে গত ২০ মে ২০২৬ তারিখে কলকাতা পুরসভার স্পেশ্যাল অফিসার (বিল্ডিং) সোমনাথ বড়ালের এজলাসে মামলার শুনানি হয়। শুনানির পর সংশ্লিষ্ট নথি ও তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে ওই কাঠামোটিকে বেআইনি বলে চিহ্নিত করা হয় এবং তা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর ১২ জুন ২০২৬ তারিখে সন্দীপ ঘোষের উদ্দেশে একটি চূড়ান্ত নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ওই নোটিশে বলা হয়েছে, নোটিশ প্রাপ্তির ৪৫ দিনের মধ্যে ছাদের অননুমোদিত কাঠামোটি নিজ উদ্যোগে সরিয়ে ফেলতে হবে। সেই হিসেবে আগামী ২৭ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে ভাঙার কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুরসভার তরফে আরও জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যদি ওই কাঠামো অপসারণ না করা হয়, তাহলে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্ট, ১৯৮০-এর সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে পুরসভা নিজেই পদক্ষেপ করবে। প্রয়োজনে বুলডোজার ব্যবহার করে কাঠামোটি ভেঙে ফেলা হবে। শুধু তাই নয়, ভাঙার কাজে যে খরচ হবে, তার সম্পূর্ণ অর্থ বাড়ির মালিক অর্থাৎ সন্দীপ ঘোষের কাছ থেকেই আদায় করা হবে।
উল্লেখ্য, আরজি কর কাণ্ডের পর থেকেই সন্দীপ ঘোষকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক এবং তদন্তের খবর শিরোনামে উঠে এসেছে। সেই আবহেই এবার তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও এই পদক্ষেপ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই বিষয়ে সন্দীপ ঘোষ বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তিনি পুরসভার নির্দেশ মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঠামোটি ভেঙে ফেলবেন, নাকি আইনি পথে চ্যালেঞ্জ জানাবেন, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।



















