কলকাতা: এমনিতেই ইডি এবং সিআইডির জোড়া সাঁড়াশি চাপে রীতিমতো জেরবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার মাঝেই এবার তাঁর বিরুদ্ধে উঠল আমফানের ত্রাণে ব্যাপক দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বিরুদ্ধে এই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে শনিবার বিষ্ণুপুর থানায় সরাসরি এফআইআর (FIR) দায়ের করলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। (Fir lodged against abhishek banerjee in Bishnupur)
কী অভিযোগ বিজেপির?
২০২০ সালের ২০ মে সুন্দরবন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায় আছড়ে পড়েছিল ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় আমফান। ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে কেন্দ্রের তরফে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ত্রাণ পাঠানো হয়। ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসের দাবি, সেই ত্রাণের টাকা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে পৌঁছয়নি, বরং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের অঙ্গুলিহেলনে তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-নেত্রীরা তা আত্মসাৎ করেছেন।
বিজেপি নেতার দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী দুর্নীতির রূপরেখা-
বিষ্ণুপুর ১ ব্লক: ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি মেরামতির জন্য ২৫ কোটি ৮০ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। প্রকৃত ঘরের সংখ্যা ৩১ হাজার হলেও, কাগজে কলমে ৩৪ হাজার ঘর দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
বিষ্ণুপুর ২ ব্লক: এই ব্লকে ৩২ কোটি ৫ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকার পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুয়ো সুবিধাভোগী: একই ফোন নম্বরে ৬-৭ জন, একই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৭-৮ জন এবং একই পরিবারের ১১-১২ জন করে ত্রাণের টাকা পেয়েছেন বলে বিস্ফোরক অভিযোগ ববির।
লক্ষ্য সিট গঠন ও বৃহত্তর আইনি পদক্ষেপ
শনিবার বিষ্ণুপুর থানায় বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিলের টাকা তছরূপের দায়ে একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করার পর বিজেপি নেতা জানান, আগামী দিনে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের প্রত্যেকটি থানায় এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হবে। ইতিমধ্যেই তিনি জেলা পুলিশ সুপারের কাছে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠন করে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন। তৎকালীন বিডিও, পঞ্চায়েত প্রধান, উপপ্রধান এবং জেলাপরিষদের সভাপতি-সহ সমস্ত স্তরের প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের এই তদন্তের আওতায় আনার জোরদার দাবি জানানো হয়েছে।
বাড়ছে আইনি চাপ ও অস্বস্তি
উল্লেখযোগ্যভাবে, বিধানসভায় সই জাল এবং ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত জোড়া মামলায় আপাতত সিআইডি-র কড়া স্ক্যানারে রয়েছেন অভিষেক। সই জাল মামলায় গত বৃহস্পতিবার ভবানী ভবনে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা তাঁকে ম্যারাথন জেরা করেছেন গোয়েন্দারা এবং আগামী রবিবার তাঁকে ফের হাজিরা দিতে হবে।
পাশাপাশি, শুক্রবার তাঁর বাড়িতে গিয়ে ডিজে মন্তব্য মামলায় আগামী ১৬ জুন হাজিরার নোটিস ধরিয়ে এসেছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা। এর ঠিক আগেই ১৫ জুন সল্টলেকের ইডি দপ্তরেও তাঁর হাজিরার কথা রয়েছে। এই ধারাবাহিক আইনি তলবের মাঝেই আমফান ত্রাণ দুর্নীতির এই নতুন অভিযোগ ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের আইনি বিপদ যে ক্রমশ আরও বাড়িয়ে তুলল, রাজনৈতিক মহলে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।



















