ভোটের মুখে বাংলায় প্যাকআপ আই প্যাক

কলকাতা: ভোটের মুখে বাংলার রাজনৈতিক আবহে হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়েছে এক চাঞ্চল্যকর খবর। (I-PAC work suspension)ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাক বা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি নাকি রাজ্যে তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
ipac-packup-bengal-election-kolkata-office-closed-tmc-concern

কলকাতা: ভোটের মুখে বাংলার রাজনৈতিক আবহে হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়েছে এক চাঞ্চল্যকর খবর। (I-PAC work suspension)ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাক বা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি নাকি রাজ্যে তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। রবিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় জোর জল্পনা।

দাবি করা হয়, সংস্থার কর্মীদের ই-মেল মারফত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তাঁদের ২০ দিনের জন্য ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে এবং ১১ মে-র পর ফের যোগাযোগ করা হবে। এমনকি আইনি বাধ্যবাধকতার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ ছিল সেই তথাকথিত বার্তায়।

   

তবে এই খবর সামনে আসতেই দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের বক্তব্য, আই-প্যাক আগের মতোই নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত রয়েছে এবং কোথাও কোনও কাজ বন্ধ হয়নি। বরং এই ধরনের খবরকে তারা ‘বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা’ বলেই অভিহিত করেছে।

আরও দেখুনঃ ৩,০০০ সেনা, ১০টি যুদ্ধবিমান, ৫টি যুদ্ধজাহাজ! একে অপরের দেশে মোতায়েন করতে সম্মত ভারত-রাশিয়া

তৃণমূলের দাবি, ভোটের আগে সংগঠনের ভিত দুর্বল দেখানোর জন্যই এই ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আই-প্যাক দীর্ঘদিন ধরেই তাদের কৌশলগত সহযোগী হিসেবে কাজ করছে এবং এখনও সেই কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবেই চলছে। রাজ্য জুড়ে প্রচার, কর্মসূচি, মাইক্রো-প্ল্যানিং সবই পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে হঠাৎ এমন গুজব ছড়ানোর পেছনে কারা থাকতে পারে? তৃণমূলের অন্দরের একাংশের মতে, এর পিছনে কোনও বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। বিশেষ করে যখন রাজ্যে নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে, তখন এই ধরনের খবর ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

এদিকে এই বিতর্কের মধ্যেই সামনে এসেছে আই-প্যাকের সঙ্গে যুক্ত একাধিক বিতর্কিত ঘটনার প্রসঙ্গ। সম্প্রতি সংস্থার অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট গ্রেফতার করেছে। দিল্লির আদালতে তাঁকে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। এই ঘটনাও রাজনৈতিক চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

শুধু তাই নয়, এর আগেও আই-প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের কলকাতার বাড়ি এবং সল্টলেকের অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি। সেই সময় তল্লাশিতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে যায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই সমস্ত ঘটনাই আই-প্যাককে ঘিরে এক ধরনের অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি করেছে, যা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে তৃণমূলের অবস্থান স্পষ্ট তারা এই সমস্ত জল্পনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ভুয়ো খবর বা ভয় দেখানোর রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তারা নির্দিষ্ট দিনে ভোটের মাধ্যমে নিজেদের মতামত জানাবে এবং ফলাফলেই তার প্রতিফলন ঘটবে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google