আজ ফের আইপ্যাক মামলা সুপ্রিমকোর্টে! আসতে পারে বড় সিদ্ধান্ত

নয়াদিল্লি: সুপ্রিমকোর্টে আজ ফের বহুপ্রতীক্ষিত আইপ্যাক মামলার শুনানি। (IPAC case)এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র দায়ের করা এই মামলা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে চলছে টানাপোড়েন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা…

ipac-case-supreme-court-hearing-mamata-banerjee-ed-allegations

নয়াদিল্লি: সুপ্রিমকোর্টে আজ ফের বহুপ্রতীক্ষিত আইপ্যাক মামলার শুনানি। (IPAC case)এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র দায়ের করা এই মামলা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে চলছে টানাপোড়েন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে সরাসরি অভিযুক্ত করে ইডি দাবি করেছে যে, তাঁর নির্দেশে বা উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযানে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ জোর করে লুট করা হয়েছে। আজকের শুনানিতে এই অভিযোগের ওপর আরও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ জানুয়ারি, ২০২৬। কলকাতায় আইপ্যাক-এর দফতর এবং তার সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈন-এর বাড়িতে ইডি অভিযান চালায়। এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিল কয়লা পাচার মামলা-সহ অর্থ পাচারের অভিযোগ। আইপ্যাক তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত একটি বড় রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা। অভিযান চলাকালীন পরিস্থিতি হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান।

   

আরও দেখুনঃ আজ শহরে সোনার দামে অভাবনীয় পতন

তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমার সহ রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।ইডির অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢুকে পড়েন এবং অভিযানে বাধা দেন। তিনি একটি সবুজ ফাইল হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসেন, যা ইডি দাবি করেছে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণপত্র ছিল। ইডির আধিকারিকদের মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ইডি এই ঘটনাকে “অভূতপূর্ব ও চাঞ্চল্যকর” বলে বর্ণনা করেছে।

তাদের মতে, এটা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে রাজ্যের হস্তক্ষেপের স্পষ্ট উদাহরণ, যা “ডাকাতি”র মতো অপরাধের সমতুল্য। ইডি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ রাজ্য পুলিশের কর্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ চেয়েছে।অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে “মিথ্যা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা” বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

তাঁর আইনজীবী কপিল সিব্বল সুপ্রিম কোর্টে বলেছেন যে, ইডির তল্লাশির রেকর্ডেই স্পষ্ট যে সব ডিভাইস বা নথি নেওয়া হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে দাবি করেছেন, তিনি দলীয় নথি রক্ষা করতে গিয়েছিলেন, কোনও প্রমাণ চুরি করেননি। রাজ্য সরকারের পালটা অভিযোগ, ইডির অভিযানে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে এবং রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ বলেছে, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যদি কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে “আইনের শাসনহীনতা”র পরিস্থিতি তৈরি হবে। আদালত ইতিমধ্যে রাজ্য পুলিশের দায়ের করা ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর-এর ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। গত কয়েক মাসে মামলাটি একাধিকবার পিছিয়েছে জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি, তারপর মার্চ পর্যন্ত। আজকের শুনানি এই বিতর্কের নতুন মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।